চায়ের
কাপটাতে দ্বিতীয়বারের মত চুমুক দেয় জিতু। চিনি ছাড়া চা। মানে লাল রঙয়ের
গরম পানি! ভ্যাঁপসা গরমে গরম পানি খাওয়া কষ্টকর। তবুও জিতুকে পানিটা শেষ
করতেই হবে। চিনি কম দিয়ে চা টা সেই দিতে বলেছে। এখন যেচে চিনি চাওয়াটাও
প্রেস্টিজের ব্যাপার। বিশেষ করে জিমির সামনে। জিমি চিনি ছাড়া চা খায়।
ডায়েবেটিস নাকি ডায়েট কন্ট্রোল করছে সঠিক জানেনা জিতু। জিমিকে খুশি করতেই
আজ চিনিকে বিসর্জন দিয়েছে সে। চিনি ছাড়া চা জিনিসটা আর যাই হোক সখ করে
খাওয়ার মত কিছু না।
গত পাঁচদিন নিরলস গবেষণার পর জিমি নামক মেয়েটার শুধু একটা দোষ খুঁজে পেয়েছে জিতু। মেয়েটা জন্মগতভাবে ব্রাজিলের সাপোর্টার। জিমির বাবা মানে জিতুর খালুও ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত। দাদার খবরটা এখনো জানতে পারেনি সে। ভদ্রলোকই বোধহয় পরিবারে প্রথম ব্রাজিলের বীজটা পুঁতেছিলেন। এসব সাপোর্ট টাপোর্টে পরিবারের একটা প্রভাব থেকেই যায়। এই ব্রাজিলিয়ান বাড়িতে শান্তিতে কয়েকদিন থাকতে হলে নিজের আর্জেন্টিনা প্রীতিটা যে পুরোপুরি গোপন রাখতে হবে সেটা বাড়িতে ঢোকার আগেই বুঝে ফেলেছে সে। বাড়ির ছাঁদে ইয়া বড় একটা ব্রাজিলের পতাকা লাগিয়েছে জিমি। জিনিসটা দেখতে দৃষ্টিকটু। দৃষ্টিকটু জিনিস চোখের সামনে বেশীক্ষণ রাখলে মেজাজ আপনাআপনিই বিগড়ে যায়। পতাকাটা সরানো উচিৎ।
- জিমি
- বলো
- আচ্ছা কোন বাংলাদেশী যদি পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে নাচানাচি করে তবে কি তাকে শাস্তি দেয়া উচিৎ?
- উচিৎ মানে? হাত-পা কেটে কিমা করে সোজা পাকিস্তানে পাঠানো উচিৎ! খাবে বাংলাদেশের আর পতাকা উড়াবে পাকিস্তানের?
- এক্সাক্টলি তাই। আর কেউ যদি তার বাড়িতে ভারতের পতাকা উড়ায়?
- আজব তো! ভারতের পতাকা উড়াবে কেন? বাংলাদেশ ভারত নাকি?
- ইন্ডিয়ানরা তো তাই মনে করে। মুক্তিযুদ্ধ নাকি ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ ছিল। অবশ্য অনেক বাংলাদেশীও তাই ভাবে।
- ঐ মীর জাফরগুলোকে ইন্ডিয়ার কাঁটাতারে ঝুলে রাখা উচিৎ!
- স্বাধীন বাংলাদেশে যারা ভীনদেশী পতাকা উড়ায়, তারা রাজাকার!
- হুম।
- যশোরে তো সব বিদেশী পতাকা সরিয়ে ফেলেছে জেলা প্রশাসন। অনেক ভালো একটা উদ্যোগ। আই সাপোর্ট ইট!
- কাজ টা ঠিক করেনি।
- হোয়াই? ভারত-পাকিস্তানের পতাকা টানানো যাবে না, আর আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের টা যাবে?
- হ্যা যাবে। কারণ প্রাইম মিনিস্টার টানানোর অনুমতি দিয়েছেন। তাছাড়া যারা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা টানিয়েছে তারমানে এই নয় যে তারা বাংলাদেশকে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বানাতে চায়। তারা জাস্ট ওদের ফুটবল টিমকে পছন্দ করে। তোমার সেটা বোঝা উচিৎ।
কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায় জিতু। জিমি বাচ্চা মেয়ে নয় যে জিতুর এ পতাকা থিওরি সুবোধ বালিকার মত বিনা দ্বিধায় মেনে নেবে সে। পতাকা জিমি সরাবে না । সংলাপে যখন কাজ হল না, তখন উলটো পথেই হাঁটতে হবে জিতুকে।
জিমির একটা ছোট ভাই আছে। ক্লাস সেভেনে পড়ে। এ বাড়ির মধ্যে ওই একটা প্রাণীই আছে যে ব্রাজিলের সাপোর্টার না। এ সুবাদে জিমির সাথে ওর সম্পর্কটাও অম্ল-মধুর। জিমি ওর জন্য একটা ব্রাজিলের জার্সি এনেছিল। ভদ্র ছেলে জনি নিতে আপত্তি করেনি। পরদিনই অবশ্য সেটা এক ভিখিরিকে দিয়ে দিয়েছে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে জনির মেসি লেখা আর্জেন্টিনার জার্সিটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে এত বড় ট্রাম কার্ড থাকতে এমনি এমনি হাল ছাড়বে কেন জিতু?
‘জনি, চল একটু ঘুরে আসি’- জনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় জিতু। ফেরে অনেক দেরী করে। ততক্ষণে ব্রাজিল-মেক্সিকোর খেলা শুরু হয়ে গেছে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে জনি ব্রাজিলের পক্ষ নেয়। ব্রাজিলের পায়ে বল গেলেই চিৎকার করে ওঠে জনি। সাথে সুর মেলায় জিতু। রহস্যের দৃষ্টিতে তাকায় জিমি।
- তুমিও আর্জেন্টিনার সাপোর্টার?
- নাহ! আমি বস মানুষ, বসনিয়ার সাপোর্টার!
- তবে তোমার বসনিয়া কে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকো। টিটকারী করবে না।
- টিটকারী করলাম কখন? আমি তো উৎসাহ দিচ্ছি!
- তোমার উৎসাহের বানী ব্রাজিলে গিয়ে পৌঁছবে না। সো দয়া করে অফ যাও!
- ব্রাজিলে না পৌঁছাক অনেকের কানে তো পৌঁছবে! তাতেই হবে!
কথাটা বলে দেয়ালে টাঙানো নেইমারের ছবিটার দিকে তাকায় জিতু। চোখ দু’টো বিস্ফোরিত করে জিতুর দিকে চেয়ে থাকে জিমি। যেন জিতুকে আস্ত গিলে ফেলবে সে। জিমির অবস্থা দেখে মুখ টিপে হাসে জনি! হঠাৎ ‘গোল’ বলে জোরে চিৎকার করে ওঠে সে। জনির চিৎকারে জিতুর থেকে মুখ ফিরিয়ে কালো মুখ সাদা করে টিভির দিকে তাকায় জিমি। কিন্তু না! বল মেক্সিকোর গোলকিপারের হাতে বন্দী। মুখে কৃত্রিম খারাপলাগার ছাপ এনে হতাশার সুর তোলে জনি। ‘আপু আর একটু! আর একটু জোরে কিক নিলেই হত! মেক্সিকোর ওটা গোলকিপার না, চুম্বকের খাম্বা!’
খেলা গোল শূন্য ড্র হয়। জিতু চোখ টিপে ইশারা করে জনিকে। চুক চুক করে দুঃখ প্রকাশ করে জনি। ‘ব্রাজিল আজ অনেক ভালো খেলেছে! গোল কিপারটা না থাকলে আজ মেক্সিকো হাফ ডজন গোল খেত! ডোন্ট ক্রাই আপু! বেটার লাক নেক্সট টাইম!’ রাগে কড়মড় করে ওঠে জিমি। কিছু বলতে পারে না!
পরদিন সকালে দরজার সামনে এক টুকরো হলুদ কাপড় দেখতে পায় জিমি। চোখ দুটো ঘোলা হয়ে আসে জিমির। দৌড়ে ছাঁদে যায় সে। সবুজ রঙয়ের পতাকাটা পতপত করে উড়ছে। মাঝের হলুদ রম্বসটাকে সরিয়ে কে যেন একটা টকটকে লাল বৃত্ত বসিয়ে দিয়েছে। জিমি তন্ময় হয়ে পতাকাটার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখের ঘোলা ভাবটা নিমিষেই কেটে যায় জিমির।মো
গত পাঁচদিন নিরলস গবেষণার পর জিমি নামক মেয়েটার শুধু একটা দোষ খুঁজে পেয়েছে জিতু। মেয়েটা জন্মগতভাবে ব্রাজিলের সাপোর্টার। জিমির বাবা মানে জিতুর খালুও ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত। দাদার খবরটা এখনো জানতে পারেনি সে। ভদ্রলোকই বোধহয় পরিবারে প্রথম ব্রাজিলের বীজটা পুঁতেছিলেন। এসব সাপোর্ট টাপোর্টে পরিবারের একটা প্রভাব থেকেই যায়। এই ব্রাজিলিয়ান বাড়িতে শান্তিতে কয়েকদিন থাকতে হলে নিজের আর্জেন্টিনা প্রীতিটা যে পুরোপুরি গোপন রাখতে হবে সেটা বাড়িতে ঢোকার আগেই বুঝে ফেলেছে সে। বাড়ির ছাঁদে ইয়া বড় একটা ব্রাজিলের পতাকা লাগিয়েছে জিমি। জিনিসটা দেখতে দৃষ্টিকটু। দৃষ্টিকটু জিনিস চোখের সামনে বেশীক্ষণ রাখলে মেজাজ আপনাআপনিই বিগড়ে যায়। পতাকাটা সরানো উচিৎ।
- জিমি
- বলো
- আচ্ছা কোন বাংলাদেশী যদি পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে নাচানাচি করে তবে কি তাকে শাস্তি দেয়া উচিৎ?
- উচিৎ মানে? হাত-পা কেটে কিমা করে সোজা পাকিস্তানে পাঠানো উচিৎ! খাবে বাংলাদেশের আর পতাকা উড়াবে পাকিস্তানের?
- এক্সাক্টলি তাই। আর কেউ যদি তার বাড়িতে ভারতের পতাকা উড়ায়?
- আজব তো! ভারতের পতাকা উড়াবে কেন? বাংলাদেশ ভারত নাকি?
- ইন্ডিয়ানরা তো তাই মনে করে। মুক্তিযুদ্ধ নাকি ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ ছিল। অবশ্য অনেক বাংলাদেশীও তাই ভাবে।
- ঐ মীর জাফরগুলোকে ইন্ডিয়ার কাঁটাতারে ঝুলে রাখা উচিৎ!
- স্বাধীন বাংলাদেশে যারা ভীনদেশী পতাকা উড়ায়, তারা রাজাকার!
- হুম।
- যশোরে তো সব বিদেশী পতাকা সরিয়ে ফেলেছে জেলা প্রশাসন। অনেক ভালো একটা উদ্যোগ। আই সাপোর্ট ইট!
- কাজ টা ঠিক করেনি।
- হোয়াই? ভারত-পাকিস্তানের পতাকা টানানো যাবে না, আর আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের টা যাবে?
- হ্যা যাবে। কারণ প্রাইম মিনিস্টার টানানোর অনুমতি দিয়েছেন। তাছাড়া যারা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা টানিয়েছে তারমানে এই নয় যে তারা বাংলাদেশকে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বানাতে চায়। তারা জাস্ট ওদের ফুটবল টিমকে পছন্দ করে। তোমার সেটা বোঝা উচিৎ।
কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায় জিতু। জিমি বাচ্চা মেয়ে নয় যে জিতুর এ পতাকা থিওরি সুবোধ বালিকার মত বিনা দ্বিধায় মেনে নেবে সে। পতাকা জিমি সরাবে না । সংলাপে যখন কাজ হল না, তখন উলটো পথেই হাঁটতে হবে জিতুকে।
জিমির একটা ছোট ভাই আছে। ক্লাস সেভেনে পড়ে। এ বাড়ির মধ্যে ওই একটা প্রাণীই আছে যে ব্রাজিলের সাপোর্টার না। এ সুবাদে জিমির সাথে ওর সম্পর্কটাও অম্ল-মধুর। জিমি ওর জন্য একটা ব্রাজিলের জার্সি এনেছিল। ভদ্র ছেলে জনি নিতে আপত্তি করেনি। পরদিনই অবশ্য সেটা এক ভিখিরিকে দিয়ে দিয়েছে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে জনির মেসি লেখা আর্জেন্টিনার জার্সিটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে এত বড় ট্রাম কার্ড থাকতে এমনি এমনি হাল ছাড়বে কেন জিতু?
‘জনি, চল একটু ঘুরে আসি’- জনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় জিতু। ফেরে অনেক দেরী করে। ততক্ষণে ব্রাজিল-মেক্সিকোর খেলা শুরু হয়ে গেছে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে জনি ব্রাজিলের পক্ষ নেয়। ব্রাজিলের পায়ে বল গেলেই চিৎকার করে ওঠে জনি। সাথে সুর মেলায় জিতু। রহস্যের দৃষ্টিতে তাকায় জিমি।
- তুমিও আর্জেন্টিনার সাপোর্টার?
- নাহ! আমি বস মানুষ, বসনিয়ার সাপোর্টার!
- তবে তোমার বসনিয়া কে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকো। টিটকারী করবে না।
- টিটকারী করলাম কখন? আমি তো উৎসাহ দিচ্ছি!
- তোমার উৎসাহের বানী ব্রাজিলে গিয়ে পৌঁছবে না। সো দয়া করে অফ যাও!
- ব্রাজিলে না পৌঁছাক অনেকের কানে তো পৌঁছবে! তাতেই হবে!
কথাটা বলে দেয়ালে টাঙানো নেইমারের ছবিটার দিকে তাকায় জিতু। চোখ দু’টো বিস্ফোরিত করে জিতুর দিকে চেয়ে থাকে জিমি। যেন জিতুকে আস্ত গিলে ফেলবে সে। জিমির অবস্থা দেখে মুখ টিপে হাসে জনি! হঠাৎ ‘গোল’ বলে জোরে চিৎকার করে ওঠে সে। জনির চিৎকারে জিতুর থেকে মুখ ফিরিয়ে কালো মুখ সাদা করে টিভির দিকে তাকায় জিমি। কিন্তু না! বল মেক্সিকোর গোলকিপারের হাতে বন্দী। মুখে কৃত্রিম খারাপলাগার ছাপ এনে হতাশার সুর তোলে জনি। ‘আপু আর একটু! আর একটু জোরে কিক নিলেই হত! মেক্সিকোর ওটা গোলকিপার না, চুম্বকের খাম্বা!’
খেলা গোল শূন্য ড্র হয়। জিতু চোখ টিপে ইশারা করে জনিকে। চুক চুক করে দুঃখ প্রকাশ করে জনি। ‘ব্রাজিল আজ অনেক ভালো খেলেছে! গোল কিপারটা না থাকলে আজ মেক্সিকো হাফ ডজন গোল খেত! ডোন্ট ক্রাই আপু! বেটার লাক নেক্সট টাইম!’ রাগে কড়মড় করে ওঠে জিমি। কিছু বলতে পারে না!
পরদিন সকালে দরজার সামনে এক টুকরো হলুদ কাপড় দেখতে পায় জিমি। চোখ দুটো ঘোলা হয়ে আসে জিমির। দৌড়ে ছাঁদে যায় সে। সবুজ রঙয়ের পতাকাটা পতপত করে উড়ছে। মাঝের হলুদ রম্বসটাকে সরিয়ে কে যেন একটা টকটকে লাল বৃত্ত বসিয়ে দিয়েছে। জিমি তন্ময় হয়ে পতাকাটার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখের ঘোলা ভাবটা নিমিষেই কেটে যায় জিমির।মো
উৎসঃ সামহোয়ারইনব্লগ