National লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
National লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৫

মানবপ্রকৃতি ও প্রকৃতির নীরব প্রতিক্রিয়া


প্রকৃতি
কি এই অন্যায় নিরবে সহ্য করে? না। সে তো নীরব, কিন্তু অন্ধ নয়। সে দেখে মানুষ কেমন করে খুন করে, নিপীড়ন চালায়, বিশ্বাসঘাতকতা করে, হিংসা ছড়ায়। প্রকৃতি হয়তো কাঁদে না, চিৎকার করে না; কিন্তু একসময় তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তখন সে ঝড় হয়ে ওঠে সিডর, আম্পান, ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা- সবই যেন মানুষের পাপের নিরব প্রতিক্রিয়া।

আজ প্রকৃতি ভারসাম্য হারিয়েছে, ঠিক যেমন মানুষ হারিয়েছে বিবেক। গ্রীষ্মে শীত, শীতে গ্রীষ্ম, আকাশের রঙে বিষন্নতা, বাতাসে গন্ধ নেই, যেন সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে- “তোমরাই কি আমার নিয়ন্ত্রক? না আমি তোমাদের?”

এই বৈপরীত্য আর কাকতালীয় নয়। এটা মানুষ নামের জীবের লোভ, অবিচার, এবং সীমাহীন আত্মমোহের ফল। মানুষের মধ্যে এখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চেয়ে প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসা, এবং একে অন্যকে ঘায়েল করার কৌশলই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে আজ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে “মানুষ কি সত্যিই আশরাফুল মাখলুকাত?”

কখনো কখনো মনে হয়, সৃষ্টিকর্তাও হয়তো ভাবছেন- “আমি কেন এমন একটি জাতিকে সৃষ্টি করলাম, যারা ক্ষমতা আর লাভের জন্য সবকিছু ভুলে যেতে পারে?”( নাউজুবিল্লাহ! হে আল্লাহ!! আমাদের ক্ষমা করো!!!)

সমস্যা হলো আমরা নিজেদের ভুল বুঝি, তবু স্বীকার করি না। কাকে ঠকিয়ে কে বড় হবে, কাকে দমন করে কে ক্ষমতা পাবে, এসব হিসাবের মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছে সহানুভূতি, মায়া, ভালোবাসা। সত্য বললে কেউ পাশে দাঁড়ায় না, অথচ মিথ্যার রঙে রাঙানো কুকর্মীরা হয়ে ওঠে নায়ক।

তাই বলা যায়, প্রকৃতি আর সমাজ দুটোরই ভারসাম্য আজ ভেঙে পড়েছে। একটি নষ্ট হলে অন্যটি তার প্রতিক্রিয়া দেয়। আর যদি আমরা এখনই না থামি, না বদলাই; তবে হয়তো একদিন প্রকৃতিই আমাদের চূড়ান্ত জবাব দিয়ে দেবে, এমনভাবে, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।

সোমবার, মার্চ ২৪, ২০২৫

ডিজিটাল প্লাটফর্ম বনাম বাস্তবতা

পর্ব- ০১












আন্তরিকতার উপাখ্যান

- খন্দকার এম এ আউয়াল 


মানুষ সামাজিক জীব। দলবদ্ধভাবে বসবাস ও পারস্পরিক সহমর্মিতার মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে তার সভ্যতা। একসময় মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পারস্পরিক সম্পর্ক, আত্মীয়তার বন্ধন, একে-অপরের প্রতি মায়া-মমতা। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে, এই আন্তরিকতার জগতে এক নতুন রূপান্তর দেখা যাচ্ছে।

আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তি আমাদের সংযুক্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সংযোগে উষ্ণতার অভাব স্পষ্ট। একসময় যেখানে সম্পর্কের ভিত্তি ছিল ভালোবাসা ও সহমর্মিতা, সেখানে এখন কৃত্রিমতা আর লোকদেখানো মানবিকতা জায়গা করে নিচ্ছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এখন প্রয়োজনের আবেদনে আবদ্ধ, আন্তরিকতার বদলে স্বার্থ আর প্রতিযোগিতাই হয়ে উঠেছে মুখ্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আমাদের দূরত্ব ঘুচিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেইসঙ্গে আমাদের হৃদয়ের দূরত্বও যেন বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। মানুষ এখন একে অপরের পাশে থেকেও আসলে অনেক দূরে, ভার্চুয়াল জগতে যতটা সংযুক্ত, বাস্তব জীবনে ততটাই বিচ্ছিন্ন। মায়া-মমতা ও ভালোবাসার অভিব্যক্তি এখন 'রিঅ্যাকশন' আর 'কমেন্ট'-এর জালে সীমাবদ্ধ। ক্ষমতার লোভ, নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখানোর প্রবণতা, আর লোক দেখানো সহানুভূতি সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে এক অদৃশ্য বিশৃঙ্খলার দিকে।

বর্তমান সমাজের প্রতিচ্ছবিতে বা মানুষের আচরনে সামাজিকতা কিংবা আন্তরিকতার বিপরীতমুখী গ্রাফের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের লক্ষণ ভালোভাবেই ফুটে উঠছে। মানুষের মধ্যে ক্রমশ একধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে, যা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবে ও। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাচ্ছে, আত্মীয়তার সংজ্ঞা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। একসময় যেখানে পরিবার ও প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা ছিল স্বাভাবিক, সেখানে এখন নিজস্ব স্বার্থই হয়ে উঠেছে প্রধানতম দিক।

এই প্রবণতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যাওয়ায় একাকিত্ব, হতাশা, এবং মানসিক অবসাদ বাড়ছে ক্রমাগত। কৃত্রিম জীবনের চাপে মানুষ সত্যিকারের আবেগ অনুভব করতেও যেন ভুলে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার প্রশংসা আর স্বীকৃতির পেছনে ছুটতে গিয়ে বাস্তব জীবনে হারিয়ে ফেলছে "আন্তরিকতা"।

এর ফলে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব তৈরি হচ্ছে প্রকটভাবে। কেউ বিপদে পড়লেও পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা কমে যাচ্ছে, কারণ "নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত" থাকার সংস্কৃতি গভীরভাবে শিকড় গেড়ে ফেলেছে। আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে জন্ম নিচ্ছে অবিশ্বাস, ঈর্ষা ও অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে সমাজের ভারসাম্য, নৈতিকতা ও মানবিকতা।

সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, নতুন প্রজন্ম এই পরিবেশেই বেড়ে উঠছে। তারা প্রকৃত আন্তরিকতা কেমন, তা জানার সুযোগ পাচ্ছে না। পরিবার থেকে আন্তরিকতার শিক্ষা না পেলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সম্পর্কের সংজ্ঞা হয়তো শুধুই প্রয়োজনমাফিক ব্যবহার হয়ে দাঁড়াবে।

সুতরাং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট সত্যিকার অর্থে আন্তরিকতা কি এবং তা কিভাবে সামাজিক সম্পর্ক বির্নিমান করে, সে সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন ধারণা দেওয়াটা অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে অনুধাবন করাতে হবে যে, আন্তরিকতা সত্যিই একটা বিরল গুণ, যা কোনো সার্টিফিকেট, ট্যালেন্ট বা স্ট্যাটাস দিয়ে মাপা যায় না। এটা একদম হৃদয়ের গভীর থেকে আসে, কৃত্রিমতা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। যারা সত্যিকারের আন্তরিক, তাদের অনুভূতিগুলো মুখের ভাষার আগে প্রকাশ পায়, চোখের চাহনি, ব্যবহারে ধরা পড়ে। কিন্তু আজকের ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় অনেকে শুধুই উপস্থিতি দেখায়, সংখ্যার খেলা বাড়ায়, অথচ ভেতরে কোনো উষ্ণতা থাকে না। এটাই এখনকার এক বড় বাস্তবতা, অনেক সম্পর্ক কেবল স্ক্রিনের আড়ালেই থেকে যায়, আত্মার সংযোগ সৃষ্টি হয় না।

তবে আশার দিক হচ্ছে মানুষের এই রোবটিক জীবনের মাঝেও আন্তরিকতা একেবারেই হারিয়ে যায়নি, শুধু তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সম্পর্কগুলোকে আবার নতুন করে উপলব্ধি করতে হবে, ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশকে কৃত্রিমতার মোড়ক থেকে বের করে আনতে হবে। সত্যিকারের মানবিকতা তখনই ফিরবে, যখন আমরা প্রযুক্তিকে নয়, মানুষকেই প্রাধান্য দেবো মন থেকে, আন্তরিকভাবে।

আন্তরিক মানুষেরা সবসময় আলাদা, তাদের সংখ্যা কম হলেও তারা হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। আন্তরিকতা আসলে দূরত্ব বা মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে না, বরং মানুষের ইচ্ছা, মানসিকতা, আর অনুভূতির গভীরতার ওপর নির্ভর করে। যদি সত্যিকারের সংযোগ গড়ার ইচ্ছা থাকে, তবে সেটা ভার্চ্যুয়াল হোক বা বাস্তব সবখানেই সম্ভব।

অনেক সময় আমরা দেখি, বাস্তব জীবনেও মানুষ মুখোমুখি থেকেও অনুভূতিহীন হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ হাজার মাইল দূরে থেকেও পরম আত্মীয়তার মতো পাশে থাকে। আসল ব্যাপারটা হলো বোঝার ক্ষমতা, সহানুভূতি, আর সম্মানের জায়গাটা ঠিক রাখা।

এখনকার সময়ে অনেক সম্পর্কই যেমন লেনদেনের মতো হয়ে গেছে এমন যে, স্বার্থ থাকলে গুরুত্ব আছে, না থাকলে বিস্মৃতির ধুলায় ঢাকা পড়ে যায়। আন্তরিকতা, অনুভূতি, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা যেন কৃত্রিমতার চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীলতা ও ধৈর্যের অভাব, পরস্পরের প্রতি সত্যিকারের যত্ন নেওয়ার অভ্যাসও কমে যাচ্ছে। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া সম্পর্কগুলোকে সহজলভ্য করে তুললেও, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো গভীরতা হারিয়ে ফেলে, যেন শুধু ‘অনলাইন স্ট্যাটাস’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ!

তেমনি এর বৈপরীত্য ও পরিলক্ষিত হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যেমন এখনো কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলো স্বার্থ ছাড়িয়ে গিয়ে হৃদয়ের গভীর থেকে আসে। যারা সত্যিকার অর্থে অনুভূতি বোঝে, তারা কৃত্রিমতার ফাঁদে আটকে যায় না। 

হ্যাঁ, একদম ঠিক! পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে বলেই আন্তরিকতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। যারা স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে, যারা অন্যকে সত্যিকার অর্থে মানুষ হিসেবে দেখে, তাদের কারণেই এখনো ভালোবাসা, সম্মান, আর মানবিকতা বেঁচে আছে।

এই ভালো মানুষগুলোর সংখ্যা কম হলেও, তাদের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে আন্তরিকতা একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার সত্যিকারের বোঝাপড়া, ধৈর্য, আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। যারা শুধু নেওয়ার জন্য আসে, তারা কৃত্রিমতার আবরণে ঢেকে যায়, কিন্তু যারা দেওয়ার মানসিকতা রাখে, তারা সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। তারা বর্তমান সমাজ ও সম্পর্ক গুলোকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নৈতিক, মানবিক ও আন্তরিক সমাজ বিনির্মানে তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকে নিরলস।


বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৪

সবাইতো সুখী হতে চায়’-রেলমন্ত্রী

‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ সংসদে রেলমন্ত্রীর মধুর গানরেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জীবনের পড়ন্ত বেলায় ৬৭ বছর বয়সে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন । বুধবার তিনি সংসদে এসেছিলেন লাল টুকটুকে পাঞ্জাবী পরে। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এসময় বেশিরভাগ সদস্য তাকে অভিনন্দন জানান। গানের সুরে তাদের অভিন্দনের জবাব দেন মন্ত্রী।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নকর্তা সরকারি ও স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্যরা বিলম্ব হলেও বিয়ের ঘোষণা দেয়ায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রেলমন্ত্রীর চার্মিং চার্মিং ভাব। উনি এখন চার্মিং মুডে চলছেন।’ এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালে মুজিবুল হক গানের সুরে বলেন, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়...।’
এ সময় সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকায় চাষাড়া থেকে আদমজী পর্যন্ত ডবলগেজ রেলপথ স্থাপনের দাবি জানান। জবাব দিতে উঠে মন্ত্রী বলেন, ‘সত্যিই বলেছেন আমার চার্মিং চার্মিং ভাব। কিন্তু মনে রাখবেন- সবাইতো সুখী হতে চায়। আমিও চাই।
এরপর প্রশ্ন করতে গিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, বিলম্ব হলেও রেলমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। সেই সপ্তম সংসদ থেকে আমরা তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য কতই না চেষ্টা করেছি। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও সক্ষম হইনি। তাকে আমরা অনেকদিন ধরে চিনি। কিন্তু এতো সুন্দর রঙের লাল টুকটুকে পাঞ্জাবী পরে আসতে কখনও দেখিনি। উনি একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। রাজনীতিতে তিনি সার্থক হয়েছেন, আশা করি নতুন জীবন সঙ্গীনি পেয়ে জীবন যুদ্ধেও সার্থক হবেন। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি।
জবাব দিতে উঠে রেলমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, কোন ভাল কাজ একবারে না হওয়ার চেয়ে দেরীতে হওয়া ভাল। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম হিন্দীতে একটি উক্তি করে পুরো সংসদে হাসির খোরাক যোগান।

রবিবার, জুলাই ২০, ২০১৪

খন্দকার মোশাররফের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ

মুদ্রা পাচার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেয়। এই আদেশের ফলে কারাবন্দি এই বিএনপি নেতা আপাতত আর মুক্তি পাচ্ছেন না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই জামিন আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের নিয়মিত আপিলের আবেদন করতে বলা হয়েছে।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
সাবেক মন্ত্রী মোশাররফকে গত ৯ জুলাই শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয় বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাই কোর্ট বেঞ্চ।
জামিনের আদেশে বলা হয়, খন্দকার মোশাররফকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া চলবে না। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যোগাযোগও করতে পারবেন না।
এই রায় স্থগিতের জন্য দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে দুটি আবেদন করে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুদক।
মামলা হওয়ার পর তিনি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও আপিল বিভাগ পরে তা বাতিল করে। এরপর গত ১২ মার্চ গুলশানের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর কয়েকবার হাই কোর্টে জামিন চাইলেও আদালত তাকে ফিরিয়ে দেয়। শেষে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারপতি নাঈমা হায়াদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ বিষয়ে একটি রুল দেয়। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তাকে নিয়মিত জামিন দেয়া হয়।
খন্দকার মোশাররফের দাবি, মামলায় যে অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে তা অবৈধভাবে অর্জিত নয়, পাচারও করা হয়নি। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত লন্ডনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সময় তিনি যে অর্থ আয় করেছিলেন তা পরে যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। ওই অর্থই এত বছরে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলার হয়েছে বলে মোশাররফের দাবি।

ইহুদিদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ থাকতে পারে: হাছান মাহমুদ

‘ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বর্বর হামলায় বিএনপির নীরবতায় ইহুদিদের সঙ্গে দলটির যোগাযোগ থাকতে পারে’ এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, “ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনের এই বর্বর হামলায় বিএনপির নীরবতায় আমার সন্দেহ হয় তাদের সঙ্গে ইহুদিদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না!”
রোববার রাজধানীর শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘নাগরিক সেবা’ আয়োজিত গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলার প্রতিবাদ ও চলমান রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনও গাজায় হামলা হয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ জানাতে সংসদে প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তখন বিএনপি এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এখনো তাদের পক্ষ থেকে তেমন কেনো প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে না।”
তিনি আরো বলেন, “গাজায় ইসরাইলের আক্রমণ শুরু হলে দলের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছিল। পক্ষান্তরে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে যাদের মধ্যে কয়েকটি ইসলামী দল রয়েছে। তারা কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।”

বিএনিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “গতকাল (শনিবার) এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, দুর্নীতি করার জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি। মূলত কিছু লোকের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “অর্থায়ন বন্ধ করার পর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগ আর কোনো দিন পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে পারবে না। অথচ শুরু হলে এখন বলছে দুর্নীতি করার জন্য সেতুর কাজ শুরু করছি। প্রকৃত পক্ষে তারা চায় না দেশের উন্নয়ন হোক। তারা এদেশকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের কাছে বন্দী রাখতে চায়।”
হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম এমপি, শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।

হঠাত্ করেই শিক্ষা ভবনে যান শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ভবন হিসেবে পরিচিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পরিদর্শন করতে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা অভিযোগের কথা শুনলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হঠাত্ করেই শিক্ষা ভবনে যান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় প্রধান ফটকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মন্ত্রীকে ঘিরে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান।

এ সময় একজন শিক্ষক বলেন, এখানে এমপিওভুক্তির (বেতনভাতা বাবদ মাসিক সরকারি অনুদান) জন্য আবেদন করলে এমপিও পেতে পাঁচ-সাত মাস লেগে যায়। কিন্তু পরে ওই পাঁচ-সাত মাসের বকেয়াটা আর দেওয়া হয় না।

যাত্রাবাড়ী এলাকার একজন অভিভাবক বলেন, যাত্রাবাড়ীতে একটি স্কুলের মাসিক বেতন ৭০০ টাকা। কিন্তু কোচিং বাবদ প্রতি মাসে নেওয়া হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা।
এভাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাঁদের লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরে মন্ত্রী আবদুল কুদ্দুস শিকদার নামে প্রশিক্ষণ শাখার একজন সহকারী পরিচালকের কক্ষে যান। সেখানে মন্ত্রী তাঁকে বলেন, তিনি (আবদুল কুদ্দুস শিকদার) প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করেন। এ সময় মন্ত্রী তাঁকে তিরস্কার করেন। সেখানে ৩০ মিনিট থাকার পর মন্ত্রী চলে যান।

এই শিক্ষা ভবনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুরোনো। বিভিন্ন কাজে শিক্ষক-কর্মচারীরা এখানে গিয়ে অনেক সময় হয়রানিরও শিকার হন বলে অভিযোগ আছে।

শনিবার, জুলাই ১৯, ২০১৪

ঈদের আগে রাজধানীতে চাঁদাবাজির ধুম

ঈদের আগে চাঁদাবাজির ধুম পড়েছে রাজধানীতে। সড়ক থেকে ফুটপাত, মার্কেট থেকে বাসাবাড়ি, কাঁচাবাজার, লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল সর্বত্র চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক পাহারা সত্ত্বেও চাঁদাবাজরা ঈদ বখশিশের নামে দুই হাতে চাঁদা তুলছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে যেমন চাঁদাবাজি হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের নামেও। চাঁদাবাজি হচ্ছে টেলিফোনেও। কোনো কোনো স্থানে আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্যাডাররা জোট হয়ে চাঁদাবাজি করছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, চাঁদাবাজদের দৌরাত্দ্য ততই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে র্যাব ও পুলিশের কাছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি চাঁদা দাবি ও হুমকির আশঙ্কা করে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া রাজধানীতে চাঁদার দাবিতে হুমকি-ধমকি ও হামলার ঘটনা ঘটছে। চাঁদা না পেয়ে মতিঝিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে এক ঠিকাদারকে হত্যা করেছে। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্যও চাঁদাবাজিতে ভীষণ ব্যস্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের লাইনসম্যান, কোথাও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা চাঁদাবাজদের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। পুলিশ ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষের সঙ্গেই কমিউনিটি পুলিশের ঘনিষ্ঠতা থাকায় চাঁদাবাজির অনেক ঘটনাই এখন আর প্রকাশ পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদাবাজদের মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা পুলিশের চেয়ে নিজেদের কৌশলকেই কার্যকর বলে মনে করছেন। এ কারণে অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের হাত করে নিয়েছেন। মৌসুমি চাঁদাবাজদের রুখতে ভাড়াটে মাস্তানদেরও রাখা হয়েছে কোথাও কোথাও। তাদের মাধ্যমেই দেনদরবারের পর চাঁদাবাজদের বিদায় করা হচ্ছে। তারা জানান, এখন আর অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ বাজার পাড়ি দিতে হবে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, 'ঈদ বা এ ধরনের উৎসবের আগে চাঁদাবাজির প্রবণতা লক্ষ করা গেলেও এবার অনেক কম। তবে টেলিফোনে চাঁদাবাজির কিছু অভিযোগ আসছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পেশাদার কিছু চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা জামিনে ছাড়া পেয়েছেন বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের কাছে চিরকুট পাঠিয়ে ঈদ সালাম পেঁৗছে দিচ্ছেন। চিরকুটে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে দিচ্ছেন। মিরপুরের একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছে রমজানের শুরুতেই ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সালাম পেঁৗছে দেন চাঁদাবাজরা। তিনি এ নিয়ে কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাননি বলে সমঝোতার মাধ্যমে চাঁদার অঙ্ক কমিয়ে তাদের বিদায় করেছেন। তিনি বলেন, রোজার শুরু থেকে সন্ত্রাসীরা নীরবে চাঁদা তোলার কাজ শুরু করেছে। তার মতো অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকার একজন প্যাকেজিং ব্যবসায়ী চাঁদাবাজদের কারণে অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রমজানের শুরু থেকে তিনি সাতজনকে হাসিমুখে বিদায় করেছেন। এখন তিনি আর পারছেন না। ব্যবসা যেহেতু করতেই হবে, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের তিনি খেপিয়ে তুলতে চান না বলে পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোয় চলছে নীরব চাঁদাবাজি। মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্স, কো-অপারেটিভ মার্কেট সোসাইটি, শাহআলী শপিং কমপ্লেঙ্, নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, তালতলা সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট ও পুরান ঢাকার বেশির ভাগ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এসব স্থানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সদস্যরাও এখন নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাত শহীদ নিহত হলেও তার ক্যাডাররা সক্রিয়। তাদের কারণে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। ঈদের কারণে কারওয়ান বাজারে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। পিচ্চি হান্নান, সাহাবুদ্দিন ও মুরগি ফারুক নিহত হওয়ার পর এখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা চাঁদাবাজির হাল ধরেছেন বলে আড়তদাররা জানিয়েছেন। আগে প্রতি রাতে সেখানে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হলেও এখন আদায় হচ্ছে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। মৌচাক ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারী শিমুল ও মাসুমের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, ডাকাত শহীদের ক্যাডারদের পাশাপাশি নতুন নতুন সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুৎ গ্রুপের সদস্যরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ১ লাখ টাকা দেওয়ার পর সন্ত্রাসীরা আর বিরক্ত করেননি। চাঁদা দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ব্যবসা করতে হলে চাঁদা না দিয়ে উপায় নেই। ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিনই চাঁদাবাজরা অন্তত ২৫-৩০ জনের কাছে টেলিফোনে চাঁদা দাবি করেন। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ব্যবসা করছেন সবাই। এলাকায় পুলিশি টহল তেমন একটা থাকে না। যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী হাসান আলী র্যাবের কাছে অভিযোগ করেন, 'চাঁদাবাজরা আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করেছে। এক পর্যায়ে কিছু টাকা দিতে তিনি রাজি হয়েছি। কিন্তু ওই সন্ত্রাসী রাজি হচ্ছে না। সে বলে দিয়েছে, পুরো ১ লাখ টাকা না দিলে আমাকেসহ পরিবারের কাউকে ঈদ করতে দেবে না।' গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের নামে চাঁদাবাজি করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ও তাদের সোর্সেরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন।
পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে কেবল রাজধানীতেই সাড়ে ১০ হাজার বাস-মিনিবাস থেকে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে অর্ধকোটি টাকারও বেশি। মালিক-শ্রমিকের কল্যাণের কথা বলেই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এ চাঁদা তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ একেবারে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে পড়েছে। ট্যাঙ্কি্যাব থেকে শুরু করে হিউম্যানহলার, বাস, ট্রাক কিছুই চলতে পারছে না চাঁদা পরিশোধ না করে।

শেখ হাসিনার কেরামতিতে সমুদ্র মামলার রায় বাংলাদেশের- মতিয়া চৌধুরী

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনার কেরামতি না থাকলে সমুদ্র মামলার রায় বাংলাদেশের পক্ষে আসতো না। ২০০৯ এ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বার্মার সাথে সমুদ্র মামলায় জয়ী হয়, এইবার আবার ক্ষমতায় এসে আমরা ভারতের সাথে সমুদ্র মামলায় জয়ী হয়েছি। 
১৯ জুলাই শনিবার শেরপুরের নকলা পৌরসভায় গরীব দুঃস্থদের মধ্যে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ চাল, শাড়ী,শার্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রীর সাথে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন তিনি পৌরসভা সহ তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল, ১ হাজার দুঃস্থ নারীকে ১টি করে শাড়ী, ৮শ যুবককে ১টি করে শার্ট/টিশার্ট ও ৫০ জন দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীকে ১টি করে থ্রিপিস প্রদান করেন।

পুর্ণগঠনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি পরিণত হবে

মহানগর বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের প্রশংসা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই কমিটি গঠিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় উন্মোচন হবে। এবং আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে জেলা কমিটিগুলো পুর্ণগঠনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি একটি গতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনের পরিণত হবে।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ ভিক্টোরি হোটেলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ফ্রন্টের বর্ধীত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মির্জা আব্বাস বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি দক্ষতা ও গুনে সবার চেয়ে এগিয়ে। এবং হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও একজন ত্যাগি নেতা। আমরা আশা করছি তাদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপি শক্তিশালী হবে। জনগণের আশা আকাঙ্খা পুরণ হবে।
ক্ষমতাসীনরা পদ্মসেতুর টাকা লুটপাট করার ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের চাওয়ার কিছুই নেই। তারা নিজেদের চাহিদা পুরণেই ব্যবস্থা। তাই পদ্মসেতুর কাজ বিশ্ব ব্যাংককে না দিয়ে নিজেরাই করছে। আবার এমন একটি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে, যাদের ঠিকানা সরকারই কাছে নেই।
সরকারের মন্ত্রী- এমপিরা দেশের বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সব ব্যাংকগুলোতে সরকার আবারও অর্থায়নের কথা ভাবছে। এর কারণ হচ্ছে মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতির পথ আরো প্রস্তত করে দেয়া।

সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফরকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদের বাংলাদেশ সফরে আনন্দিত যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু। আঞ্চলিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে ভারতের প্রচেষ্টাকেও স্বাগত জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এ অঞ্চলে নয়াদিল্লির একটি ভূমিকা রয়েছে। গত বুধবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, গত জুনে বিদেশে প্রথম কোন রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে যাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, সার্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের নতুন সরকারের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নিশা দেশাই বিসওয়াল আরও বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্ক নেতৃবৃন্দকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ ‘ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার ব্যাপারে তার দৃঢ় অঙ্গীকারে’র বিষয়টি প্রমাণ করেছিল।

ট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে মারামারি

চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই মারামারি করেছে বিবদমান দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এতে ওই ইফতার মাহফিল পন্ড হয়ে যায়। নগরীর ভিআইপি টাওয়ার কমিউনিটি সেন্টারে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মউিদ্দিন চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু উপস্থিত ছিলেন। ইফতার শুরুর আগে চট্টগ্রাম জেলা জাতীয় পার্টি দক্ষিণ এর আহবায়ক নুরুস সাফাকে বক্তব্য দিতে না দেয়ায় মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এ নেতা। এসময় হইচই ও হট্টগোল বেধে যায়। মঞ্চের মধ্যেই নেতারা টেনেহেচড়ে একে অন্যের পাঞ্জাবি ছিড়ে ফেলেন। পরে শুরু হয় ইফতারি ও চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি। অনুষ্ঠানস্থলে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও নেতাকর্মীদের মারামারি থামাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এক পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকদের অনেকে চলে যান। মারামারি চলাকালে মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলুর বিরুদ্ধে সেøাগান দেন নেতাকর্মীরা।

রেলের সেবার মান বেড়েছে- রেলপথ মন্ত্রী

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের সেবা দেয়ার লক্ষ্যে বিস্তর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে রেলওয়ে। প্রতিটি ষ্টেশনে কালোবাজারি বন্ধ আর শিডিউল সঠিক রেখে সার্বক্ষণিক যাত্রীদের সেবায় কাজ করছে রেলওয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় রেলের সেবার মান অতিতের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ এখন নিরাপদ বাহন হিসেবে রেলকেই বেশী প্রধান্য দিচ্ছেন। শনিবার সকালে রাজশাহী রেলওয়ে ষ্টেশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রেলমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের উন্নয়নে সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় ৪৬টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল যোগাযোগে আরও গতি আসবে। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে রেলকে ধ্বংসের দাঁড়প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলো দাবি করে বলেন, বর্তমানে রেলের নতুন ১২০টি বগি আমদানির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ১৫০টি বগির জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আরো ৭০টি রেলের ইঞ্জিন নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে ননস্টপ ঢাকাগামী এসি ট্রেন, আব্দুল্লাপুর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ, রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যোগাযোগ চালু, রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত কৃষিপণ্যবাহী আলাদা ট্রেনের ব্যবস্থা, পূর্ণাঙ্গ রেলভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব দাবি পূরণের উদ্যোগ নেয়ারও আহবান জানান। 

লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব

গাউসুল আজম সরকার। ছবি: ইউএনবিলেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গাউসুল আজম সরকারকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজ শনিবার জানান, 
গাউসুল আজমকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গাউসুল আজম সরকারকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রদূত ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কয়েক দিন ধরে আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ আসছিল। সম্প্রতি এমন অভিযোগও এসেছিল যে, রাষ্ট্রদূত দূতাবাসে এক বাংলাদেশি তরুণকে জোর করে আটকে রেখেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গাউসুল আজমকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের হাতে অর্পণ করে আসতে বলা হয়েছে।

আল্লাহর ওয়াস্তে মুখটা বন্ধ রাখবেন- হাসানুল হক ইনু

খালেদা জিয়াকে জঙ্গিবাদীদের সঙ্গে ‘দহরম মহরম’ না করতে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, খালেদাকে সেই পরামর্শ দিতে না পারলে বার্নিকাট যেন ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ তাঁর ‘মুখ বন্ধ’ রাখেন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) কুষ্টিয়া শাখার ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী এসব বলেন।

নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রদূত মহোদয় আমাদের আবার নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শ দেওয়ার আগে আপনি (রাষ্ট্রদূত) বেগম খালেদা জিয়াকে জঙ্গিবাদ, জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে দহরম মহরম না করার পরামর্শ দেন। যদি পরামর্শ না দিতে পারেন, তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে মুখটা বন্ধ রাখবেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার জন্যে মার্কিন সরকার আপনাকে (রাষ্ট্রদূত) এখানে (বাংলাদেশে) পাঠায়নি।’

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ইফতেখার মাহমুদ, কুষ্টিয়া বিএমের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রতন, পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দীন আহম্মেদ ও চিকিত্সকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জবাবে বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন সংবিধান ও আইনসম্মত। আর নির্বাচনে কেউ না আসলে নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হয়, এ কথাটা আমরা মানি না।’
মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির সম্মুখে বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারির সংসদীয় নির্বাচন নিঃসন্দেহে ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে গঠনমূলক সংলাপে অংশগ্রহণ করা দরকার, যা আরও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ গতকাল ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে বলব, দুদিন আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে নাশকতা অন্তর্ঘাতের তাণ্ডব চলেছিল, সেই সময় এইসব কূটনীতিক এবং বুদ্ধিজীবীরা কোথায় ছিলেন?’
ইনু কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে সেই সব তাণ্ডব সৃষ্টিকারী জামায়াতি গুন্ডা, হেফাজতি গুন্ডা এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের বন্ধু নয়। তাঁরা (কূটনীতিক) নির্বাচনের পরামর্শ দেওয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে জামায়াত-হেফাজত অন্তর্ঘাত নাশকতা ত্যাগ করার পরামর্শ দেবেন। সেটাই হচ্ছে মঙ্গলজনক। এটা যদি না দিতে পারেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আমরাই রক্ষা করব। এ ব্যাপারে তাঁদের (কূটনীতিকদের) কোনো সহযোগিতা দরকার নাই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো দমনপীড়ন কার্যকলাপ চালাচ্ছে না। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা কেউ চলন্ত বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত, আবার কেউ চলন্ত ট্রেনে ঘুমন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার সঙ্গে জড়িত, অসংখ্য জায়গায় বোমাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং আন্দোলনের নামে যারা সন্ত্রাস, দলবাজি, জঙ্গিবাজি তত্পরতা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান চলছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা শান্তিপূর্ণভাবে সভা সমিতি করে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নাই।

সমালোচনা করুন, কিন্তু বাধা সৃষ্টি করবেন না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের উদ্দেশে বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করুন, কিন্তু সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি করবেন না। সরকারবিরোধীদের ইন্ধন বা উসকানি দেবেন না। এটা গণমাধ্যমের কাজ নয়।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই ইফতার মাহফিলের পর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলনকক্ষে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সরকারের কাজের সহায়ক হতে পারে। এ ধরনের সংবাদ সমাজের অনেক অসংগতি দূর করতে পারে। কিন্তু গণমাধ্যমে অনেক ভুল সংবাদ পরিবেশিত হয়। এটা কারও জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ‘টক শো’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব টক শো যে কত টক, তা কেবল আমরা বুঝি। টকের সঙ্গে একটু ঝাল-মিষ্টি হলে ভালো হয়। কিন্তু এ একবারে বাঘা তেঁতুলের মতো টক।’
দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমের উন্নয়নে তাঁর সরকারের ভূমিকা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখন দৈনিক পত্রিকা কয়েক শ। ৩২টি টিভি চ্যানেল, ২২টি এফএম রেডিও, ৩২টি কমিউনিটি রেডিও। এর প্রায় সবগুলোরই অনুমোদন দিয়েছে তাঁর সরকার। ফলে গণমাধ্যমের ব্যাপ্তি ও প্রসার বেড়েছে। এত বড় গণমাধ্যম গঠনমূলক ভূমিকা রাখলে দেশ ও সমাজের অগ্রগতি অবশ্যই ত্বরান্বিত হবে।
বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ইফতার মাহফিলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ রাজনীতির একটা বিশেষ পর্ব অতিক্রম করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জাগরণ পর্ব চলছে। কিন্তু জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে এক পাল্লায় মাপা কিংবা দুজনের থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখার নীতি সঠিক নয়। এই নীতি ওই অপশক্তিকেই সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য ছাড়াও স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন যথাক্রমে বিএফইউজের একাংশের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ। তাঁরা সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ‘গণমাধ্যমবান্ধব’ ও ‘আমাদের মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের জন্য একটি আবাসিক এলাকার জায়গা চান। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেন।
বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়ার পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে কয়েকজন সাংসদ, সম্পাদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়: মতবিনিময় সভায় প্রথমেই যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে সাংবাদিক সেলিম সামাদের নিয়োগের প্রসঙ্গ ওঠে। একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সেলিম সামাদ সব সময় আওয়ামী লীগবিরোধী। বিগত সরকারের সময় তিনি যে নির্যাতিত হয়েছেন এবং কারাভোগ করেছেন তা সাংবাদিকতার কারণে নয়। সভায় উপস্থিত প্রায় সবাই সেলিম সামাদের বিরোধিতা করেন।
একাধিক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, সরকার অষ্টম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করলেও অধিকাংশ মালিক তা মানছেন না। অনেক মালিক সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করছেন। ন্যায্য পাওনা দিচ্ছেন না। আবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের কাছ থেকে বিজ্ঞাপনের বাড়তি দাম নিচ্ছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, সেখানকার জাদুঘরের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রধান ফটক ঢেকে আছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাদের পোস্টারে। দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে আছে।
একাধিক সাংবাদিক সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের দুরবস্থার কথা শোনান প্রধানমন্ত্রীকে। তাঁরা বলেন, সরকারের বরাদ্দ করা অর্থে বাসসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আট মাসের বেতন-ভাতা মেটানো যায়। বাকি চার মাসের টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হচ্ছে। তাঁরা বাসসকে একটি সার্বক্ষণিক নিউজ চ্যানেল করার প্রস্তাব করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে সাড়া দেননি। তিনি বলেন, নিউজ চ্যানেল নয়, বাসসকে ডিজিটালাইজ করা হবে। অনলাইনের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাসস যাতে সার্বক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বাসসকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।
একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে সাংবাদিকদের যেসব প্লট দিয়েছেন, অনেকেই তা বিক্রি করে দিয়েছেন। সেগুলো এখন আর তাঁদের নামে নেই। এরপর আবার তাঁরা হয়তো নতুন কোনো প্রকল্পে প্লট নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এ ব্যাপারে তদন্ত হওয়া দরকার।
সভায় মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সাংবাদিকদের নিয়োগের বিষয়ে বিএফইউজে-ডিইউজে কখনো কিছু জানতে পারে না। যে মালিকেরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেন না, দেখা যায় তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সফরে সঙ্গী হন। এগুলো অনেক অসংগতি সৃষ্টি করে।
এ সময় পাশে উপবিষ্ট তথ্যমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাসদের লোকদের দায়িত্ব দিয়েছি তো, সে জন্যই এই অবস্থা। কিছু সমস্যা থাকবে। সমস্যা সমাধান করেই অগ্রসর হতে হবে।