News লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
News লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৫

মানবপ্রকৃতি ও প্রকৃতির নীরব প্রতিক্রিয়া


প্রকৃতি
কি এই অন্যায় নিরবে সহ্য করে? না। সে তো নীরব, কিন্তু অন্ধ নয়। সে দেখে মানুষ কেমন করে খুন করে, নিপীড়ন চালায়, বিশ্বাসঘাতকতা করে, হিংসা ছড়ায়। প্রকৃতি হয়তো কাঁদে না, চিৎকার করে না; কিন্তু একসময় তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তখন সে ঝড় হয়ে ওঠে সিডর, আম্পান, ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা- সবই যেন মানুষের পাপের নিরব প্রতিক্রিয়া।

আজ প্রকৃতি ভারসাম্য হারিয়েছে, ঠিক যেমন মানুষ হারিয়েছে বিবেক। গ্রীষ্মে শীত, শীতে গ্রীষ্ম, আকাশের রঙে বিষন্নতা, বাতাসে গন্ধ নেই, যেন সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে- “তোমরাই কি আমার নিয়ন্ত্রক? না আমি তোমাদের?”

এই বৈপরীত্য আর কাকতালীয় নয়। এটা মানুষ নামের জীবের লোভ, অবিচার, এবং সীমাহীন আত্মমোহের ফল। মানুষের মধ্যে এখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চেয়ে প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসা, এবং একে অন্যকে ঘায়েল করার কৌশলই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে আজ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে “মানুষ কি সত্যিই আশরাফুল মাখলুকাত?”

কখনো কখনো মনে হয়, সৃষ্টিকর্তাও হয়তো ভাবছেন- “আমি কেন এমন একটি জাতিকে সৃষ্টি করলাম, যারা ক্ষমতা আর লাভের জন্য সবকিছু ভুলে যেতে পারে?”( নাউজুবিল্লাহ! হে আল্লাহ!! আমাদের ক্ষমা করো!!!)

সমস্যা হলো আমরা নিজেদের ভুল বুঝি, তবু স্বীকার করি না। কাকে ঠকিয়ে কে বড় হবে, কাকে দমন করে কে ক্ষমতা পাবে, এসব হিসাবের মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছে সহানুভূতি, মায়া, ভালোবাসা। সত্য বললে কেউ পাশে দাঁড়ায় না, অথচ মিথ্যার রঙে রাঙানো কুকর্মীরা হয়ে ওঠে নায়ক।

তাই বলা যায়, প্রকৃতি আর সমাজ দুটোরই ভারসাম্য আজ ভেঙে পড়েছে। একটি নষ্ট হলে অন্যটি তার প্রতিক্রিয়া দেয়। আর যদি আমরা এখনই না থামি, না বদলাই; তবে হয়তো একদিন প্রকৃতিই আমাদের চূড়ান্ত জবাব দিয়ে দেবে, এমনভাবে, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।

মুখোশধারীদের সমাজে অতি-ভদ্রতা একটি পাপ


এই সমাজ
, সমাজের মানুষগুলো, জীবন ও পৃথিবী- সবই এক গভীর বৈচিত্র্যে পূর্ণ। এখানে কেউ চেহারায় নিষ্পাপ, কিন্তু অন্তরে ধূর্ত; কেউ মুখে নীতিকথা বলে, কিন্তু পেছনে কুৎসার বীজ বপন করে। মানুষ চেনা সত্যিই দুঃসাধ্য, কারণ মানুষ চেনা যায় না চোখের দৃষ্টিতে, চেনা যায় সময়ের আয়নায়। সম্পর্ক, সৌজন্যতা কিংবা উপকার এসবের উপর ভিত্তি করে কাউকে চেনা প্রায়শই বিভ্রান্তিকর। কারণ মানুষের প্রকৃত চরিত্র, তার অন্তর্নিহিত রূপ, ধীরে ধীরে সময়ের পরীক্ষায় প্রকাশ পায়। এ যেন এক দীর্ঘ নাট্যচিত্র, যেখানে কেউ অভিনয়ে পটু, কেউ শুধু নির্বাক দর্শক।

আজকাল মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তাদের উপকারীর প্রতি অসহিষ্ণুতা। অতীতে তুমি যার উপকার করেছো, একদিন তাকেই হয়তো দেখবে তোমার বিপদ ডেকে আনছে। যার জন্য নিজে কিছু করেনি, তার উপকারও সে নিতে চায়। কিন্তু যখন উপকারের উপায় শেষ হয়ে যায়, তখন সেই মানুষটিই উপকারকারীর ক্ষতির চিন্তায় মত্ত হয়। উপকারের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা নয়, বরং অসূয়া হয়ে ওঠে তার প্রতিক্রিয়া। কেন? কৃতজ্ঞ হওয়ার বদলে সে কেন হয়ে ওঠে হিংস্র ও প্রতিহিংসাপরায়ণ? কারণ মানুষ যতক্ষণ সুবিধা পায়, ততক্ষণ সে শান্ত থাকে। কিন্তু যখন সে বুঝে, তার চাওয়া পূরণ আর সম্ভব নয়, তখন তার ভিতর ভালোবাসা নয় বরং বিদ্বেষ জন্মাতে শুরু করে। উপকার পেতে পেতে একসময় সে ভুলে যায়, কৃতজ্ঞতা কাকে বলে। বরং তাকে ঘিরে তৈরি হয় এক ধরনের অহংবোধ, সে ভাবে, "আমিই এই উপকারের যোগ্য ছিলাম, এ তো আমার প্রাপ্য।"

বিশেষ করে যদি তুমি ভদ্র, শান্ত, সহনশীল এবং সহজ-সরল হয়ে থাকো, তবে তোমার বিপদ আরও বাড়ে। কারণ সমাজের এক শ্রেণির মানুষ দুর্বলতার সুযোগ নিতে সদা প্রস্তুত। তারা জানে, তুমি প্রতিবাদ করবে না, চিৎকার করবে না, সুতরাং তোমার পিঠেই সবচেয়ে বেশি আঘাত করা যায়। এরা মুখে মিষ্টি, অন্তরে বিষাক্ত। এদের জন্য ভদ্রতা যেন নিজের বিপদের দাওয়াতপত্র।

এক শ্রেণির মানুষ আছে, যাদের সমাজে বলা হয় “মেধাবী”। এই বিশেষণ তাদের আত্মতুষ্টির এমন এক চূড়ায় পৌঁছে দেয়, যেখানে তারা ভুলে যায় যে, সত্যিকারের জ্ঞান বিনয়ের জন্ম দেয়, অহংকারের নয়। সমাজের অন্ধ প্রশংসা যখন একটানা কারো প্রতি বর্ষিত হয়, তখন তার ভেতরে জন্ম নেয় এক প্রকার আত্মম্ভরিতা। সে তখন নিজেকে অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ ভাবতে শুরু করে, ভুলে যায় নিজের বাস্তব পরিচয়, তার পারিবারিক ভিত্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক অবস্থান আদৌ কতটা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। সে বুঝতে পারে না, যোগ্যতা শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানসিকতা, মানবিকতা, সততা সবকিছু মিলেই তা পূর্ণতা পায়।

তাদের কাছে নিজেকে বড় দেখানোর সহজ উপায় হলো অন্যদের ছোট করা। বিশেষ করে, যারা প্রকৃত অর্থে মেধাবী, সৎ এবং নির্লোভ, তাদের প্রতি আক্রমণ করাই এদের প্রিয় কাজ। মিথ্যা কথা, চরিত্রহনন, গুজব রটানো, এমনকি দুঃসময়ে ছুরি মেরে দেওয়া, এগুলো যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। কারণ যদি তারা সেই প্রকৃত যোগ্যদের সম্মান দেয়, তবে নিজেদের কৃত্রিম শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকবে কীভাবে? সে ভাবে, অন্যকে মাটিতে নামিয়ে আনলেই সে আকাশে উঠবে।

এই চতুর, আত্মম্ভরী, কথিত মেধাবী মানুষগুলো যখন সমাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন তাদের চারপাশে জড়ো হতে থাকে সুবিধাবাদী গোষ্ঠী।এই সুবিধাবাদীরাই তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, গড়ে ওঠে এক সামাজিক অসুস্থতা। তারা চায় বিশৃঙ্খলা, কারণ বিশৃঙ্খল সমাজেই সবচাইতে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। সত্য, ন্যায়, মেধা, মূল্যবোধ- সব কিছু তখন হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়। এই গোষ্ঠী নিজেদের প্রয়োজনেই কুৎসাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদের দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে, আর সমাজে একটি পঁচনশীল কাঠামোর জন্ম দেয়।

যদি এইসব অন্যায়ের সামনে তুমি নীরব থাকো, যদি তুমি ভাবো ভদ্রভাবে এড়িয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে, তবে তুমি ধ্বংসকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছো। কারণ এরা নীরবতাকে ভয় পায় না, বরং প্রশ্রয় মনে করে। তারা তখন নিজের সীমা ভুলে নিজেকে অপ্রতিরোধ্য ভাবতে শুরু করে।

এই মুখোশধারীরা মানবিকতা বোঝে না, বিবেক বোঝে না, কৃতজ্ঞতা বোঝে না। এদের কাছে সৌজন্য এক ধরনের বোকামি, ভদ্রতা একধরনের দুর্বলতা, আর নৈতিকতা একধরনের আবেগপ্রবণ বেহায়াপনা। তাদের সামনে তোমাকে তাদের ভাষাতেই কথা বলতে হবে, বলতে হবে সত্যের ভাষায়, যুক্তির ভাষায়, প্রয়োজনে কঠোরতার ভাষায়। ভদ্রতা নয়, দৃঢ়তা হোক তোমার ঢাল। ক্ষমা নয়, বিচার হোক তোমার শপথ। কারণ, একমাত্র প্রতিবাদীরাই ইতিহাস গড়তে পারে আর নীরবরা হয় কেবল নির্যাতনের পাতার একটি নাম। 

এ প্রসঙ্গে বলবো- 

"ভদ্র হওয়া ভালো , নীরব থাকা উত্তম। কিন্তু এটাও ধ্রুব সত্য- ভদ্রতা যদি সত্যকে চাপা দেয়, তবে সেটি কাপুরুষতা। তাই সত্যকে চিৎকার করে জানাও এবং এটাই ভদ্রতার প্রকৃতরুপ।"

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৪

সবাইতো সুখী হতে চায়’-রেলমন্ত্রী

‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ সংসদে রেলমন্ত্রীর মধুর গানরেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জীবনের পড়ন্ত বেলায় ৬৭ বছর বয়সে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন । বুধবার তিনি সংসদে এসেছিলেন লাল টুকটুকে পাঞ্জাবী পরে। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এসময় বেশিরভাগ সদস্য তাকে অভিনন্দন জানান। গানের সুরে তাদের অভিন্দনের জবাব দেন মন্ত্রী।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নকর্তা সরকারি ও স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্যরা বিলম্ব হলেও বিয়ের ঘোষণা দেয়ায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রেলমন্ত্রীর চার্মিং চার্মিং ভাব। উনি এখন চার্মিং মুডে চলছেন।’ এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালে মুজিবুল হক গানের সুরে বলেন, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়...।’
এ সময় সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকায় চাষাড়া থেকে আদমজী পর্যন্ত ডবলগেজ রেলপথ স্থাপনের দাবি জানান। জবাব দিতে উঠে মন্ত্রী বলেন, ‘সত্যিই বলেছেন আমার চার্মিং চার্মিং ভাব। কিন্তু মনে রাখবেন- সবাইতো সুখী হতে চায়। আমিও চাই।
এরপর প্রশ্ন করতে গিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, বিলম্ব হলেও রেলমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। সেই সপ্তম সংসদ থেকে আমরা তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য কতই না চেষ্টা করেছি। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও সক্ষম হইনি। তাকে আমরা অনেকদিন ধরে চিনি। কিন্তু এতো সুন্দর রঙের লাল টুকটুকে পাঞ্জাবী পরে আসতে কখনও দেখিনি। উনি একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। রাজনীতিতে তিনি সার্থক হয়েছেন, আশা করি নতুন জীবন সঙ্গীনি পেয়ে জীবন যুদ্ধেও সার্থক হবেন। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি।
জবাব দিতে উঠে রেলমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, কোন ভাল কাজ একবারে না হওয়ার চেয়ে দেরীতে হওয়া ভাল। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম হিন্দীতে একটি উক্তি করে পুরো সংসদে হাসির খোরাক যোগান।

রবিবার, জুলাই ২০, ২০১৪

খন্দকার মোশাররফের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ

মুদ্রা পাচার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেয়। এই আদেশের ফলে কারাবন্দি এই বিএনপি নেতা আপাতত আর মুক্তি পাচ্ছেন না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই জামিন আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের নিয়মিত আপিলের আবেদন করতে বলা হয়েছে।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
সাবেক মন্ত্রী মোশাররফকে গত ৯ জুলাই শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয় বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাই কোর্ট বেঞ্চ।
জামিনের আদেশে বলা হয়, খন্দকার মোশাররফকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া চলবে না। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যোগাযোগও করতে পারবেন না।
এই রায় স্থগিতের জন্য দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে দুটি আবেদন করে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুদক।
মামলা হওয়ার পর তিনি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও আপিল বিভাগ পরে তা বাতিল করে। এরপর গত ১২ মার্চ গুলশানের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর কয়েকবার হাই কোর্টে জামিন চাইলেও আদালত তাকে ফিরিয়ে দেয়। শেষে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারপতি নাঈমা হায়াদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ বিষয়ে একটি রুল দেয়। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তাকে নিয়মিত জামিন দেয়া হয়।
খন্দকার মোশাররফের দাবি, মামলায় যে অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে তা অবৈধভাবে অর্জিত নয়, পাচারও করা হয়নি। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত লন্ডনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সময় তিনি যে অর্থ আয় করেছিলেন তা পরে যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। ওই অর্থই এত বছরে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলার হয়েছে বলে মোশাররফের দাবি।

ইহুদিদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ থাকতে পারে: হাছান মাহমুদ

‘ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বর্বর হামলায় বিএনপির নীরবতায় ইহুদিদের সঙ্গে দলটির যোগাযোগ থাকতে পারে’ এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, “ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনের এই বর্বর হামলায় বিএনপির নীরবতায় আমার সন্দেহ হয় তাদের সঙ্গে ইহুদিদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না!”
রোববার রাজধানীর শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘নাগরিক সেবা’ আয়োজিত গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলার প্রতিবাদ ও চলমান রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনও গাজায় হামলা হয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ জানাতে সংসদে প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তখন বিএনপি এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এখনো তাদের পক্ষ থেকে তেমন কেনো প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে না।”
তিনি আরো বলেন, “গাজায় ইসরাইলের আক্রমণ শুরু হলে দলের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছিল। পক্ষান্তরে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে যাদের মধ্যে কয়েকটি ইসলামী দল রয়েছে। তারা কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।”

বিএনিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “গতকাল (শনিবার) এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, দুর্নীতি করার জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি। মূলত কিছু লোকের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “অর্থায়ন বন্ধ করার পর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগ আর কোনো দিন পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে পারবে না। অথচ শুরু হলে এখন বলছে দুর্নীতি করার জন্য সেতুর কাজ শুরু করছি। প্রকৃত পক্ষে তারা চায় না দেশের উন্নয়ন হোক। তারা এদেশকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের কাছে বন্দী রাখতে চায়।”
হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম এমপি, শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।

প্রাথমিক স্কুল থেকে যুবতীর নগ্ন দেহ!

উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী সরকারের রাজত্বে প্রাথমিক স্কুলগুলি অপরাধের প্রধান আস্তানা হয়ে উঠছে৷ গ্রাম প্রধান যেখানে বসেন সেখানে থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে মোহনলালাগঞ্জ এলাকার বলসিংখেড়া গ্রামের প্রাথমিক স্কুল থেকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার হল এক যুবতীর নগ্ন দেহ৷
মনে করা হচ্ছে যুবতীকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে৷ স্কুলের বারান্দায় রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল৷ যুবতীর জামা ও চটি এলাকা থেকেই উদ্ধার করা হয় কিন্তু মৃতদেহের সনাক্তকরণ করা যায়নি৷
মোহললাল গঞ্জ এলাকার সিও রাজেশ যাদব জানিয়েছেন, বলসিংখেড়া গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারাই যুবতীর মৃতদেহ দেখতে পান৷
স্কুলের নিরাপত্তারক্ষী জহরলাল পুলিশে খবর দেয়৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তদন্ত শুরু করে, তখনই যুবতীর জামা স্কুল চত্বর থেকেই উদ্ধার করা হয়৷ যদিও স্কুলের বাইরে থেকে যুবতীর চটি উদ্ধার করা হয়৷
স্কুলের বারান্দার প্রচুর রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে৷ যুবতীর যৌন অঙ্গেও গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়৷ জিজ্ঞাসাবাদ করলেও যুবতীর সনাক্তকরন করা যায়নি৷ তদন্তের পর পুলিশ যুবতীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়৷
গ্রামবাসীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যুবতীকে অপহরণ করে স্কুলে নিয়ে আসা হয়েছিল৷ এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয় ও শ্বাসরোধ করে তার হত্যা করা হয়৷ পুলিশ জানিয়েছেন, ডাক্তারদের প্যানেলের মাধ্যমে যুবতীদের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে৷ রিপোর্টের মাধ্যমেই তার মৃত্যুর সঠিক জানা সম্ভব৷
পুলিশ যুবতীর দেহ সনাক্ত করার চেষ্টা করছে৷ মৃতদেহ উদ্ধারের খবর রাজধানীসহ আসপাশের বিভিন্ন জেলার পুলিশ থানায় জানানো হয়েছে৷ পুলিশ জানিয়েছেন, যুবতীকে সনাক্ত না করা গেলে তদন্তে এগোনো সম্ভব হবে না৷

হঠাত্ করেই শিক্ষা ভবনে যান শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ভবন হিসেবে পরিচিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পরিদর্শন করতে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা অভিযোগের কথা শুনলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হঠাত্ করেই শিক্ষা ভবনে যান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় প্রধান ফটকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মন্ত্রীকে ঘিরে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান।

এ সময় একজন শিক্ষক বলেন, এখানে এমপিওভুক্তির (বেতনভাতা বাবদ মাসিক সরকারি অনুদান) জন্য আবেদন করলে এমপিও পেতে পাঁচ-সাত মাস লেগে যায়। কিন্তু পরে ওই পাঁচ-সাত মাসের বকেয়াটা আর দেওয়া হয় না।

যাত্রাবাড়ী এলাকার একজন অভিভাবক বলেন, যাত্রাবাড়ীতে একটি স্কুলের মাসিক বেতন ৭০০ টাকা। কিন্তু কোচিং বাবদ প্রতি মাসে নেওয়া হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা।
এভাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাঁদের লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরে মন্ত্রী আবদুল কুদ্দুস শিকদার নামে প্রশিক্ষণ শাখার একজন সহকারী পরিচালকের কক্ষে যান। সেখানে মন্ত্রী তাঁকে বলেন, তিনি (আবদুল কুদ্দুস শিকদার) প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করেন। এ সময় মন্ত্রী তাঁকে তিরস্কার করেন। সেখানে ৩০ মিনিট থাকার পর মন্ত্রী চলে যান।

এই শিক্ষা ভবনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুরোনো। বিভিন্ন কাজে শিক্ষক-কর্মচারীরা এখানে গিয়ে অনেক সময় হয়রানিরও শিকার হন বলে অভিযোগ আছে।

ইসরায়েলের উন্মত্ততা: গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩৪২

আহত শিশুর আর্তনাদ, সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা কান্না কিংবা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়—কোনোটিতেই ভ্রূক্ষেপ করছে না ইসরায়েল। গাজার কট্টরপন্থী গোষ্ঠী হামাসকে দমন করার নামে নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিধনযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে দেশটি। গতকাল শনিবার গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল তার স্থল ও বিমান হামলা আরও তীব্র করে। গতকালসহ নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩৪২ জনে উঠেছে, যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশই শিশু।
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গতকাল ওই অঞ্চল সফরে গেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। অন্যদিকে ইসরায়েলের চলমান ‘উন্মত্ততা’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরেকাত। খবর এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের। 
৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের অভিযান ‘অপারেশন প্রোটেকটিভ এজ’ দ্বাদশ দিনে পড়েছে গতকাল। ১০ দিন বিমান হামলার পরও হামাসের রকেট ছোড়া বন্ধ করতে না পারায় বলদর্পী ইসরায়েল বৃহস্পতিবার থেকে স্থল অভিযান শুরু করে।
গতকাল গাজার বিভিন্ন জনপদে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে বিমান থেকে ব্যাপক বোমা ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়া ছোড়ে ট্যাংকের গোলা। এ অভিযানে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয় আরও ৪৮ জন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরের পর ইসরায়েলি বিমান থেকে ছোড়া বোমায় নয়জন নিহত হন। এর আগে সকালে দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরে বিমান হামলায় নিহত হন সাতজন। অন্যদিকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে অনমনীয় হামাসের রকেট হামলাও অব্যাহত ছিল। তবে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অধিকারী দেশটিতে তা তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। 
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সুড়ঙ্গ দিয়ে সে দেশের মাটিতে ঢুকে পড়া এক ফিলিস্তিনি জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে গতকাল। সেনাবাহিনী বলেছে, মেশিনগান নিয়ে ইসরায়েলি জনপদে হামলা চালানোর জন্য ঢুকে পড়েছিল একদল জঙ্গি। গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়। অন্যদিকে ইসরায়েলের দুজন সেনা প্রাণ হারায়। 
মৃত্যু উপত্যকা: দুই দিকে ইসরায়েল আর একদিকে সাগরঘেরা ফিলিস্তিনশাসিত গাজা উপত্যকা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এক আতঙ্কের জনপদ। ইসরায়েলের মুহুর্মুহু হামলায় গুঁড়িয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর। মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ছে এমনকি ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা নারী-পুরুষ-বৃদ্ধ-শিশুনির্বিশেষে যে কেউ। উগ্রপন্থী হামাসকে শায়েস্তা করাই ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্য হলেও হতাহতদের মধ্যে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সংখ্যা নগণ্য। অতীতের অনেক ঘটনার মতোই হামাসের রকেট হামলার জবাবে বহুগুণ শক্তিশালী ইসরায়েল প্রত্যাঘাত করছে জঙ্গিবিমান আর কামান বা ট্যাংক দিয়ে। গাজায় পদাতিক সেনা পাঠানোরও চিন্তাভাবনা আছে ইসরায়েলের। তবে বেসামরিক প্রাণহানি অনেক বেড়ে যাওয়া ও ইসরায়েলের সেনাদের দিকেও হতাহতের আশঙ্কা থাকায় দেশটির ভেতরেই এ নিয়ে বিরোধিতা আছে।
‘উন্মত্ততা’ বন্ধের দাবি: ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরেকাত গতকাল সকালে সিএনএনকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টার হামলায় ৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে ধ্বংস করা হয়েছে বিভিন্ন অবকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত বা একেবারে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক হাজার বাড়িঘর। এ উন্মত্ততা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
ফিলিস্তিনের জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল-কাদরা বলেন, হামলায় গতকাল যাঁরা প্রাণ হারান তাঁদের মধ্যে আছেন গাজার উত্তরে বেইত হানুন শহরের জুবেইদা পরিবারের এক সদস্যও। ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়ে গত কয়েক দিনে পরিবারটির আরও চার সদস্য প্রাণ হারান। এর মধ্যে রয়েছে ছয় ও দুই বছর বয়সী দুটি শিশু। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, গতকাল সকালে বেইত হানুনে ইসরায়েলি হামলার শিকার হয় আবু জুরাদ পরিবারের চার শিশু। ট্যাংকের গোলায় প্রাণ হারায় তারা। এ নিয়ে এই পরিবারের আট সদস্য নিহত হলেন। এর আগেও ইসরায়েলের গোলায় গাজার একটি পরিবারের চার শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিকতম অভিযান শুরুর পর গাজায় এখন পর্যন্ত নিভে গেছে ৭২টি শিশুর প্রাণ।
বিবিসি জানায়, অভিযান শুরুর পর সহিংসতায় ইসরায়েলের পক্ষে নিহত হয়েছেন এক সেনা ও এক বেসামরিক লোক। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। 
গাজার শাসন পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু আমাদের শিশুদের হত্যা করছে, এর মূল্য তাঁকে পরিশোধ করতে হবে।’©
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্থল আক্রমণের আওতা ‘উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ানোর’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থল অভিযান জোরদারে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, হামাসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে স্থল অভিযানের প্রয়োজন আছে। শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সেনারা এ কাজ করতে পারেনি। 
প্রায়ই ইসরায়েলের ঘেরাও ও নিরাপত্তা কড়াকড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া গাজা থেকে মিসর ও ইসরায়েলে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু সুড়ঙ্গের নেটওয়ার্ক আছে। জঙ্গিরা যেমন অস্ত্র পাচারের জন্য এগুলো ব্যবহার করে তেমনি বিভিন্ন বৈধ ও ইসরায়েল ঘোষিত অবৈধ পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়ে তা স্থানীয় নির্জীব অর্থনীতিতে অবদান রাখে। 
হতাহত কমানোর আহ্বান ওবামার: ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইসরায়েলিদের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে। কোনো দেশ তার ভূখণ্ডে একের পর এক রকেট এসে পড়া সহ্য করতে পারে না। তবে গাজায় বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানির ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সহিংসতা বৃদ্ধি ও নিরীহ মানুষের আরও প্রাণহানির ঝুঁকিতে ওয়াশিংটন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইসরায়েল বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা নেবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।
ওবামার এ আহ্বানের জবাবে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন্নি গ্যান্টজ বলেছেন, সেনাবাহিনী স্থল অভিযান আরও জোরদার করছে। চরম মুহূর্ত সামনে আসছে। 
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থল অভিযান থেকে বাঁচতে এরই মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
পাশ্চাত্যের অন্যান্য তৎপরতা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ক্রমাবনতিশীল গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ফোনালাপ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ প্রসঙ্গে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, রকেট হামলা থেকে আত্মরক্ষায় সংগতিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার ইসরায়েলের অধিকারের প্রতি আলাপে দুই নেতা তাঁদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস গতকাল গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি মিসরের নেওয়া শান্তি উদ্যোগের প্রতি আবারও তাঁর দেশের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। 
অভিযানের প্রেক্ষাপট: ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ এই হামলার শুরু সম্প্রতি ইসরায়েলি তিন কিশোরকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ইসরায়েল এ জন্য হামাসকে দায়ী করলেও তারা তা অস্বীকার করেছে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোর একইভাবে দৃশ্যত প্রতিশোধমূলক অপহরণ ও হত্যার শিকার হওয়ার পর উত্তেজনা নতুন মোড় নেয়। গাজা থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের রকেট ছোড়া বন্ধের অজুহাতে ইসরায়েল নতুন করে এই অভিযান শুরু করে। 
এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরেও হামাসশাসিত গাজায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। পরে আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। ফিলিস্তিনি শাসিত অপর অঞ্চল পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত ফাতাহ গোষ্ঠীর হাতে। তবে গত এপ্রিল মাসে দুই সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে এ বছরের মধ্যে যৌথভাবে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছে।

শনিবার, জুলাই ১৯, ২০১৪

শালীকে খুঁজতে পতিতালয়ে জামাইবাবু!

এক নিখোঁজ যুবতীর খোঁজে পতিতালয়ে চিরুনি তল্লাশি চালাল পুলিশ৷ শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজার থানার পতিতাপল্লীতে। পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি মাসের ১০ তারিখ কোচবিহার জেলার কোতোয়ালী থানার ঘুঘুমারি ব্লকের দুধেরখুটি গ্রামের এক ২৩ বছরের যুবতী নিখোঁজ হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে সেলাইয়ের কাজ করত ওই যুবতী৷ সেখান থেকে আর বাড়ি ফিরে আসেনি ওই যুবতী৷ এরপর হঠাৎ ১৪ই জুলাই ওই যুবতী বাড়িতে ফোন করে জানায় সে মালদহের এক পতিতাপল্লীতে রয়েছে। তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে।
এরপর মেয়েটির জামাইবাবু খদ্দের সেজে গতকাল ওই পতিতালয়ে যায় এবং তাঁর সাথে কথা বলে। কথা বলার পরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশকে সব কথা জানায় ওই ব্যক্তি৷ এরপর পুলিশ শনিবার তল্লাশি চালায় পতিতাপল্লীতে। শনিবার তাঁকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পতিতাপল্লির অন্যান্য বাসিন্দারাই পুলিশের হাতে ওই মহিলাকে তুলে দেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

ঈদের আগে রাজধানীতে চাঁদাবাজির ধুম

ঈদের আগে চাঁদাবাজির ধুম পড়েছে রাজধানীতে। সড়ক থেকে ফুটপাত, মার্কেট থেকে বাসাবাড়ি, কাঁচাবাজার, লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল সর্বত্র চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক পাহারা সত্ত্বেও চাঁদাবাজরা ঈদ বখশিশের নামে দুই হাতে চাঁদা তুলছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে যেমন চাঁদাবাজি হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের নামেও। চাঁদাবাজি হচ্ছে টেলিফোনেও। কোনো কোনো স্থানে আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্যাডাররা জোট হয়ে চাঁদাবাজি করছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, চাঁদাবাজদের দৌরাত্দ্য ততই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে র্যাব ও পুলিশের কাছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি চাঁদা দাবি ও হুমকির আশঙ্কা করে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া রাজধানীতে চাঁদার দাবিতে হুমকি-ধমকি ও হামলার ঘটনা ঘটছে। চাঁদা না পেয়ে মতিঝিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে এক ঠিকাদারকে হত্যা করেছে। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্যও চাঁদাবাজিতে ভীষণ ব্যস্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের লাইনসম্যান, কোথাও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা চাঁদাবাজদের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। পুলিশ ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষের সঙ্গেই কমিউনিটি পুলিশের ঘনিষ্ঠতা থাকায় চাঁদাবাজির অনেক ঘটনাই এখন আর প্রকাশ পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদাবাজদের মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা পুলিশের চেয়ে নিজেদের কৌশলকেই কার্যকর বলে মনে করছেন। এ কারণে অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের হাত করে নিয়েছেন। মৌসুমি চাঁদাবাজদের রুখতে ভাড়াটে মাস্তানদেরও রাখা হয়েছে কোথাও কোথাও। তাদের মাধ্যমেই দেনদরবারের পর চাঁদাবাজদের বিদায় করা হচ্ছে। তারা জানান, এখন আর অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ বাজার পাড়ি দিতে হবে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, 'ঈদ বা এ ধরনের উৎসবের আগে চাঁদাবাজির প্রবণতা লক্ষ করা গেলেও এবার অনেক কম। তবে টেলিফোনে চাঁদাবাজির কিছু অভিযোগ আসছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পেশাদার কিছু চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা জামিনে ছাড়া পেয়েছেন বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের কাছে চিরকুট পাঠিয়ে ঈদ সালাম পেঁৗছে দিচ্ছেন। চিরকুটে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে দিচ্ছেন। মিরপুরের একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছে রমজানের শুরুতেই ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সালাম পেঁৗছে দেন চাঁদাবাজরা। তিনি এ নিয়ে কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাননি বলে সমঝোতার মাধ্যমে চাঁদার অঙ্ক কমিয়ে তাদের বিদায় করেছেন। তিনি বলেন, রোজার শুরু থেকে সন্ত্রাসীরা নীরবে চাঁদা তোলার কাজ শুরু করেছে। তার মতো অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকার একজন প্যাকেজিং ব্যবসায়ী চাঁদাবাজদের কারণে অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রমজানের শুরু থেকে তিনি সাতজনকে হাসিমুখে বিদায় করেছেন। এখন তিনি আর পারছেন না। ব্যবসা যেহেতু করতেই হবে, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের তিনি খেপিয়ে তুলতে চান না বলে পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোয় চলছে নীরব চাঁদাবাজি। মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্স, কো-অপারেটিভ মার্কেট সোসাইটি, শাহআলী শপিং কমপ্লেঙ্, নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, তালতলা সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট ও পুরান ঢাকার বেশির ভাগ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এসব স্থানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সদস্যরাও এখন নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাত শহীদ নিহত হলেও তার ক্যাডাররা সক্রিয়। তাদের কারণে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। ঈদের কারণে কারওয়ান বাজারে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। পিচ্চি হান্নান, সাহাবুদ্দিন ও মুরগি ফারুক নিহত হওয়ার পর এখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা চাঁদাবাজির হাল ধরেছেন বলে আড়তদাররা জানিয়েছেন। আগে প্রতি রাতে সেখানে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হলেও এখন আদায় হচ্ছে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। মৌচাক ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারী শিমুল ও মাসুমের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, ডাকাত শহীদের ক্যাডারদের পাশাপাশি নতুন নতুন সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুৎ গ্রুপের সদস্যরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ১ লাখ টাকা দেওয়ার পর সন্ত্রাসীরা আর বিরক্ত করেননি। চাঁদা দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ব্যবসা করতে হলে চাঁদা না দিয়ে উপায় নেই। ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিনই চাঁদাবাজরা অন্তত ২৫-৩০ জনের কাছে টেলিফোনে চাঁদা দাবি করেন। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ব্যবসা করছেন সবাই। এলাকায় পুলিশি টহল তেমন একটা থাকে না। যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী হাসান আলী র্যাবের কাছে অভিযোগ করেন, 'চাঁদাবাজরা আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করেছে। এক পর্যায়ে কিছু টাকা দিতে তিনি রাজি হয়েছি। কিন্তু ওই সন্ত্রাসী রাজি হচ্ছে না। সে বলে দিয়েছে, পুরো ১ লাখ টাকা না দিলে আমাকেসহ পরিবারের কাউকে ঈদ করতে দেবে না।' গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের নামে চাঁদাবাজি করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ও তাদের সোর্সেরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন।
পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে কেবল রাজধানীতেই সাড়ে ১০ হাজার বাস-মিনিবাস থেকে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে অর্ধকোটি টাকারও বেশি। মালিক-শ্রমিকের কল্যাণের কথা বলেই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এ চাঁদা তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ একেবারে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে পড়েছে। ট্যাঙ্কি্যাব থেকে শুরু করে হিউম্যানহলার, বাস, ট্রাক কিছুই চলতে পারছে না চাঁদা পরিশোধ না করে।

শেখ হাসিনার কেরামতিতে সমুদ্র মামলার রায় বাংলাদেশের- মতিয়া চৌধুরী

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনার কেরামতি না থাকলে সমুদ্র মামলার রায় বাংলাদেশের পক্ষে আসতো না। ২০০৯ এ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বার্মার সাথে সমুদ্র মামলায় জয়ী হয়, এইবার আবার ক্ষমতায় এসে আমরা ভারতের সাথে সমুদ্র মামলায় জয়ী হয়েছি। 
১৯ জুলাই শনিবার শেরপুরের নকলা পৌরসভায় গরীব দুঃস্থদের মধ্যে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ চাল, শাড়ী,শার্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রীর সাথে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন তিনি পৌরসভা সহ তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে চাল, ১ হাজার দুঃস্থ নারীকে ১টি করে শাড়ী, ৮শ যুবককে ১টি করে শার্ট/টিশার্ট ও ৫০ জন দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীকে ১টি করে থ্রিপিস প্রদান করেন।

পুর্ণগঠনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি পরিণত হবে

মহানগর বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের প্রশংসা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই কমিটি গঠিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় উন্মোচন হবে। এবং আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে জেলা কমিটিগুলো পুর্ণগঠনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি একটি গতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনের পরিণত হবে।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ ভিক্টোরি হোটেলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ফ্রন্টের বর্ধীত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মির্জা আব্বাস বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি দক্ষতা ও গুনে সবার চেয়ে এগিয়ে। এবং হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও একজন ত্যাগি নেতা। আমরা আশা করছি তাদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপি শক্তিশালী হবে। জনগণের আশা আকাঙ্খা পুরণ হবে।
ক্ষমতাসীনরা পদ্মসেতুর টাকা লুটপাট করার ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের চাওয়ার কিছুই নেই। তারা নিজেদের চাহিদা পুরণেই ব্যবস্থা। তাই পদ্মসেতুর কাজ বিশ্ব ব্যাংককে না দিয়ে নিজেরাই করছে। আবার এমন একটি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে, যাদের ঠিকানা সরকারই কাছে নেই।
সরকারের মন্ত্রী- এমপিরা দেশের বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সব ব্যাংকগুলোতে সরকার আবারও অর্থায়নের কথা ভাবছে। এর কারণ হচ্ছে মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতির পথ আরো প্রস্তত করে দেয়া।

নিজের যৌনাঙ্গ কর্তন ও নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি

র‌্যাপ সংগীতজ্ঞ আন্দ্রে জনসন ভয়াবহ এক কাণ্ড ঘটিয়ে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আত্মহত্যার চেষ্টার সময় তিনি নিজের গোপনাঙ্গ নিজ হাতে কর্তন করেছেন। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসের যে ভবনে তিনি থাকেন, সেখান থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েছেন। তবে বেঁচে গেছেন। এখানেই শেষ নয়। তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করে ইন্টারনেটে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অবশ্য, ওই র‌্যাপার বলছিলেন, তিনি আত্মহত্যা করতে চাননি। শুধু বিশেষ অঙ্গটিই কেটে ফেলতে চেয়েছিলেন। তার মনে হচ্ছিল, এটাই সব সমস্যার মূল ছিল। আন্দ্রে জনসনের বদ্ধমূল ধারণা, যৌনতা শুধুই মরণশীলদের জন্য। তার দাবি তিনি ‘ঈশ্বর’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিড-ডে। সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটগুলোতে সবচেয়ে ঝড় তুলেছে এ খবর। জনসন অবশ্য স্বীকার করেছেন, এ ঘটনার সময় তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। তবে তিনি যা করছিলেন, তা সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই করেছেন বলে মন্তব্য করেন। স্টেজে সাধারণ তিনি ক্রাইস্ট বেয়ারার নামে পারফর্ম করেন এবং তার ব্যান্ড নর্থস্টার উ-ট্যাং ক্ল্যানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তিনি বলছিলেন, তিনি যে নিজেকে ঈশ্বর মনে করেন সে সম্পর্কে আগে কোন কথা বলেননি, কারণ মানুষ তাকে পাগল বা উন্মাদ মনে করতো। কিন্তু, এখন নিজেকে তিনি জীবিত ও প্রাণবন্ত অনুভব করছেন। সেখানে যৌনাঙ্গ থাকা বা না থাকাটা কোন বিষয়ই নয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি চিন্তার এমন একটি স্তরে বাস করছেন, যেখানে বিশ্বাসের ভিত্তিটা একটু বেশিই বেশ দৃঢ়।

সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফরকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদের বাংলাদেশ সফরে আনন্দিত যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু। আঞ্চলিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে ভারতের প্রচেষ্টাকেও স্বাগত জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এ অঞ্চলে নয়াদিল্লির একটি ভূমিকা রয়েছে। গত বুধবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, গত জুনে বিদেশে প্রথম কোন রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে যাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, সার্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের নতুন সরকারের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নিশা দেশাই বিসওয়াল আরও বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্ক নেতৃবৃন্দকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ ‘ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার ব্যাপারে তার দৃঢ় অঙ্গীকারে’র বিষয়টি প্রমাণ করেছিল।