সোমবার, জুন ৩০, ২০১৪

কারিনার বাড়িতে রণবীরের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা!

বলিউডের প্রভাবশালী কাপুর পরিবারের দুই সদস্য রণবীর কাপুর ও কারিনা কাপুর খান। সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন তাঁরা। অভিনয় জগতে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের দূতিয়ালিতেও দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন ‘বরফি’ তারকা রণবীর ও ‘হিরোইন’ তারকা কারিনা। কাজের প্রচণ্ড ব্যস্ততায় তাঁদের দেখা-সাক্ষাতের ফুরসত মেলে না বললেই চলে। ফোনেও খুব বেশি কথা হয় না।
তবে কিছুদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গভীর রাতে ভুল করে কারিনার ফোনে মিসড কল দেন রণবীর। পরদিন ফোনে কথা হয় তাঁদের। রণবীর মজা করে বলেন, রাত দুইটায় কারিনার বাড়িতে হানা দেবেন তিনি। আঁতকে উঠে কারিনা এত রাতে তাঁর বাসায় যেতে বারণ করেন রণবীরকে।
এ প্রসঙ্গে কারিনা বলেন, ‘রণবীর ও আমার দেখা-সাক্ষাত্ হয় না বললেই চলে। আসলে সাইফ ও আমি কারও সঙ্গেই খুব একটা মিশি না। তবে জন্মদিন বা দিওয়ালির মতো উপলক্ষ ও উত্সবে সব সময় আমরা একত্র হই। কিছুদিন আগে হঠাত্ করে রাত দুইটায় আমার ফোন বেজে ওঠে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ছবির শুটিংয়ে গিয়েছিল রণবীর। সম্ভবত ভুল করে সেখান থেকে আমার ফোনে মিসড কল দিয়েছিল সে। পরদিন আমি তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞেস করি, এত রাতে ফোন দিয়েছিলে কেন? কী হয়েছে? জবাবে রণবীর বলে, “আমি তোমাকে ফোন দিইনি তো।” মনে মনে ভাবলাম, যাক এই বাহানায় আমাদের দুজনের মধ্যে কথা তো হলো!’
কারিনা আরও বলেন, ‘ফোনে সামান্য সময় কথা হলেও আমরা অনেক মজা করেছি। গভীর রাতে বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার বাতিক আছে রণবীরের। সে আমাকে ভয় দেখানোর জন্য বলল, রাত দুইটায় আমার বাড়িতে হানা দেবে। জবাবে আমি বললাম, অবশ্যই তুমি আমার বাসায় আসবে। কিন্তু দয়া করে রাত দুইটায় এসো না। কারণ এত রাতে আমার বাসার কেউ জেগে থাকে না। সাধারণত রাত ১২টার মধ্যেই আমরা ঘুমিয়ে পড়ি।’
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক তালিকায় পণ্যের দূতিয়ালিতে সফল বলিউড তারকাদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন রণবীর ও কারিনা। রণবীরকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন কি না, জানতে চাইলে কারিনা বলেন, ‘আমরা দুজন একই জগতের বাসিন্দা হলেও আমরা ভিন্ন প্রজন্মের। কাজেই রণবীরের সঙ্গে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নই ওঠে না। তালিকায় আমাদের দুজনের নাম প্রথমদিকে থাকায় আমি খুবই খুশি। কারণ আমরা দুজনই কাপুর পরিবারের সদস্য। আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে অনেক বেশি গর্বিত।’
রণবীরের প্রশংসা করে কারিনা আরও বলেন, ‘খুব অল্প সময়ে রণবীর যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। চলচ্চিত্র কিংবা পণ্যের দূতিয়ালিতে তার এই সাফল্যে আমরা অনেক খুশি। আমাদের পরিবারের সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত।’

যেসব নারীদের নিয়ে বিপাকে পরতে হয় সহকর্মীদের!

কর্মক্ষেত্রে নারী সহকর্মীদের কিছু স্বভাবের কারণে মুশকিলে পড়তে হয় পুরুষদের। তবে সব নারী সহকর্মীরা যে এরকম তা নয়, কিছু বিশেষ স্বভাবের অধিকারিণী এই নারী সহকর্মীরা বেশ বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পাওে প্রতিটি অফিসের জন্য।
১. ফ্লার্টি : প্রত্যেক অফিসেই ফ্লার্টি নারী থাকেন কম বেশি একজন হলেও। এধরণের ফ্লার্টি নারীরা নিজেদের ফ্লার্টি ধরনের কথা বার্তা দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
২. স্বার্থপর : স্বার্থপর নারীরা কাজ উদ্ধারের জন্য অনেক বেশি আন্তরিকতা দেখালেও কাজ হাসিল হয়ে গেলে ফিরেও তাকান না। এমনকি যে উপকার করেছে তার বিপদেও এগিয়ে যান না এধরণের স্বার্থপর নারীরা।
৩. কূটনা স্বভাবের : কর্ম ক্ষেত্রে কিছু নারী থাকেন কুটনা স্বভাবের। এধরণের নারীরা সবার সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। কিন্তু সেটা শুধু মাত্র লোক দেখানো। একজনের কাছে আরেকজনের নামে মিথ্যে বদনাম রটানোই এধরণের নারীদের কাজ।
৪. ব্ল্যাকমেইলার : কর্মক্ষেত্রে কিছু নারী থাকেন ব্ল্যাকমেইলার। এধরণের নারীরা নানান রকম ফাঁদে ফেলেন পুরুষদেরকে। বিশেষ করে অফিসের বসকে বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার করে কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের চষ্টো করে থাকেন এধরণের নারীরা।
৫. অতিরিক্ত অলস : অতিরিক্ত অলস প্রকৃতির কিছু নারীদের খুঁজে পাওয়া যায় কর্মক্ষেত্রে। নিজের কাজটুকু করার বেলায় খুব বেশি আলসেমি থাকে তাদের। কারণে অকারনে ফাকি দেয়ার সুযোগ খোঁজেন এই ধরণের নারীরা। এমনকি নিজের কাজটি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেয়ার চেষ্টায় থাকেন সবসময়ে এধরণের নারীরা।

অ্যালার্জির যম নিম পাতা


যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জন্য নিম পাতা জাদুর মতো কাজ করে। কয়েকটি নিম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে নিয়ে গোসল করলে অ্যালার্জির সমস্যা কমে যায়। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে আক্রান্ত স্থানে লাগালেও অ্যালার্জি কমে যায়।
-যাদের মুখে ব্রনের সমস্যা আছে তারা নিম পাতা বেটে ব্রনের উপর লাগান, উপকার পাবেন।
-অনেকের মাথার ত্বকে ছোট ছোট গোটার মতো দেখা দেয়। এই ধরনের ফুসকুড়ি দারুন চুলকায়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কিছু নিম পাতা এক লিটার পানিতে ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
এতে ফুসকুড়ির সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

বলিউডের প্লাস্টিক সার্জারি করা সুন্দরীরা

মনে আছে করণ জোহরের চ্যাট শো-এর সেই পর্বের কথা? যেখানে অতিথি ছিলেন আনুশকা শর্মা? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল আনুশকার ঠোঁট যুগল আর আগের মতো নেই। কিন্ত্ত প্রাণপনে অস্বীকার করেন নায়িকা। জানান তিনি কোনও লিপ সার্জারি করাননি। এও বলেন মিডিয়া ইচ্ছে করে এসব গুজব রটাচ্ছে।
বলিউডে এই প্রথম নয়। দীর্ঘ লিস্ট দেওয়া যায় নামের ৷ কিন্ত্ত কখনোই তাঁরা স্বীকার করেননি সে কথা। তাতে কী? আমরা তো জানি ৷ আর একবার ঝালিয়ে নিই নামগুলো এবং অবশ্যই ঘটনাগুলো।
কোয়েনা মিত্র : সত্যবাদী
একমাত্র অভিনেত্রী যিনি সর্বসমক্ষে স্বীকার করেছিলেন প্লাস্টিক সার্জারির কথা ৷ ২০০৯ সালে কোয়েনার মুখের অনেক বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। পরে জানা যায় তিনি রাইনোপ্লাস্টি আর ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করিয়েছেন। কিন্ত্ত সেটা বিভৎস খারাপ হওয়ায় চেহারা ভালোর হওয়ার পরিবর্তে পুরো বদলে যায়। কোয়েনা কিন্ত্ত একটিবারের জন্যও লুকাননি সে কথা। সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। তিনি বলেন, 'যখন কসমেটিক সার্জারির ফল খারাপ হয়, সবাই বলেন আমিই প্রথম যে এই নিয়ে মুখ খুলি।'
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া : 'অশ্বত্থামা হত ইতি গজ'
সবাই জানেন প্রিয়াঙ্কা নাকের প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন। ছবিতেও তা স্পষ্ট। কিন্তু অদ্যবধি স্বীকার করেননি তিনি। অবশ্য অস্বীকারও করেননি। যখনই তাঁকে এ সব নিয়ে সাংবাদিকরা প্রাশ্ন করেছেন, তিনি খানিকটা 'অশ্বত্থামা হত ইতি গজ' ধরনের একটা উক্তি করে পাশ কাটিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর সেরা জ্ঞানী উক্তি বোধহয় এটাই- 'কসমেটিক সার্জারি তখনই ফ্লপ করে যখন কোনো অসুখ থাকে। আপনি যা আছেন তার জন্য নিজেকে ভালো না বাসলেই প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসকের ছুরি-কাঁচি আপনাকে ঈশ্বরের থেকে বেশি সুন্দর করতে পারবে না। তাই আপনার তেমন তেমনভাবেই বিষয়টা মেনে নেওয়া উচিত্‍,' উক্তি প্রিয়াঙ্কার।
বিপাশা বসু : গোদের ওপর বিষফোঁড়া- কে চায়?
'জিসম' (২০০৩) মুক্তি পাওয়ার পর বিপাশার ফিগার দেখে বোঝা যায় যে তিনি ব্রেস্ট এনহ্যান্সমেন্ট করিয়েছেন। কিন্ত্ত সেই তাঁরও মুখে কুলুপ! কারণ বোধহয় ওই একটাই- একে বলিউডে ক্যারিয়ার উঁচুনিচু হয়ে সহজেই, তার ওপর রোজই নতুন, নতুন নায়িকার আমদানি হচ্ছে বাজারে। এমনকি 'হামসকলস'- যাতে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে সিনিয়র নায়িকা, সেখানেও বাকি দুই জুনিয়র, তামান্না কিংবা এষা গুপ্তাকে যতটা পাত্তা দেওয়া হয়েছে সেটে, তা তিনি পাননি বলেই অভিযোগ তাঁর ঘনিষ্ঠদের। গোদের ওপর বিষফোঁড়া, জন অব্রাহামের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির ফলে বলিউডি ফিল্মে বিপাশা খানিক একঘরেও ৷ তার মধ্যে প্লাস্টিক সার্জারি-ফার্জারির কথা স্বীকার! তার চেয়ে তো এটাই বলা ভালো- 'আমি প্লাস্টিক সার্জারিতে বিশ্বাসই করি না।'
শিল্পা শেঠি :
শিল্পা শেঠির ১৯৯০ সালের ছবি দেখুন, সেই 'বাজিগর' (১৯৯৪), বা 'ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি'র সময়টার আর কী। আবার দেখুন 'ধড়কন' (২০০০) আর 'দোস্তানা' (২০০৮) সালের ছবি ৷ আরে বুঝতেই অনেকক্ষণ সময় চলে যাবে যে দুজনেই একই মানুষ। শোনা যায় তিনি 'ধড়কন'-এর সময়ই প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন। অবশ্যই নায়িকা এ কথা মানেননি কখনোই।
সুস্মিতা সেন :
১৯৯৪ সালে মিস ইউনিভার্স হওয়ার পরই সুস্মিতা সেন ব্রেস্ট এনহ্যান্সমেন্ট করিয়ে সিলিকন ইমপ্লান্ট করান। সেই সময় এক কাগজে রিপোর্ট বেরোয় তিনিই নাকি প্রথম নায়িকা যিনি সার্জারি করিয়েছেন। কিন্তু সুস্মিতা অস্বীকার করেন সে কথা। তিনি বলেন, 'আমি কখনো কোনো সার্জারি করাইনি। পুরোটাই ঈশ্বরপ্রদত্ত। এই সব রিপোর্ট হাস্যকর।'
কঙ্গনা রানাওয়াত :
২০০৯ সালে কঙ্গনা ইতালিতে যান। ছুটি কাটাতে। সেখান থেকে ফেরার পরেই শোনা যায় তিনি নাকি লিপ সার্জারি আর সিলিকন ইমপ্লান্ট করিয়েছেন। ২০১১ সালে 'রাসকল' ছবিতে তাঁকে বিকিনি পরা দেখে এই গুজবে আরো আগুন পড়ে। কঙ্গনার মুখপাত্র জানান এই খবর মিথ্যা তিনি বলেন, 'কঙ্গনার চিংড়ি-জাতীয় মাছে অ্যালার্জি আছে। এই দু'মাস তিনি ক্রমাগত শুটিং করছেন। আপনাদের মনে হয় এই সব সার্জারির জন্য তাঁর সময় আছে?'
যে যাই বলুক না কেন, আমরা তো জানি যা রটে তার কিছু তো বটেই। 

কামড়ের ব্যাখ্যা দিলেন সুয়ারেসের দাদি

ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দেওয়ার জন্য  লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে চারিদিকে সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে । কিন্তু উরুগুয়ের স্ট্রাইকারটির হয়ে দাদি পিরিজ গলা উঁচু করেছেন। এই ঘটনার পরে হতাশায় ভেঙে পড়া পিরিজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই ঘটনার পেছনের কারণটা সবাই জানে। তারা চেয়েছিল সুয়ারেজ যেন বিশ্বকাপটা না খেলতে পারে। সেটা তারা ঠিকমতোই করেছে। ওকে কুকুরের মতো ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।’ সুয়ারেজের দিকে নাকি আগে থেকেই চোখ রাখা হয়েছিল যেন একটা ভুল করলেই তাঁকে ছুঁড়ে ফেলা যায়, এমনটাই দাবি তাঁর।
অন্যায় তো বটেই, ফিফার এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যমূলকও বলছেন ক্ষুব্ধ সুয়ারেজের দাদি। লিভারপুল তারকার এমন কাণ্ড এই প্রথমবারের মতো হলে না হয় সেই দাবি মেনে নেয়া যেত। কিন্তু এর আগে আরো দুইবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কামড় বসানো আর বর্ণবাদী আচরণের জন্য কয়েক দফা শাস্তি ভোগ করা সুয়ারেজ কিন্তু খেলার বাইরের ঘটনার জন্য কুখ্যাতই। সুয়ারেজের এই ‘বদরাগী’ হয়ে ওঠার কারণ হিসেবে তাঁর শৈশব-স্মৃতিতে দায়ী করেছেন এই বৃদ্ধা।
সুয়ারেজের এমন স্বভাবের ব্যাখ্যা দয়েছেন তাঁর দাদি , ‘ছোটবেলায় সুয়ারেজের বাবা-মা আলাদা হয়ে যাওয়ায় তাঁর শৈশব কেটেছে অনাদর আর অসম্ভব মানসিক কষ্টে। রাগের মাথায় কোনোমতেই সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। ছোটবেলায় ওকে দেখে আমরা ভাবতেই পারিনি যে সে এতটা পথ আসতে পারবে। এতটা সফল হতে পারবে।
ফুটবল বিশ্ব তাঁর ব্যাপারে যাই ভাবুক না কেন, নিজের পরিবারের মত নিজের দেশের মানুষকেও এই দুঃসময়ে পাশে পাচ্ছেন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে তাঁর পোস্টার আর বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা নিয়ে জড়ো হয়েছিল শত শত সুয়ারেজ ভক্ত। কামড়-কাণ্ডের পর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগটা হারালেও হাজারো সমর্থকদের ভালবাসা হারান নি চার বছর আগে উরুগুয়েকে শেষ চারে তোলা এই ‘বিতর্কিত’ তারকা।

নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কঙ্গনা

কঙ্গনা রানাওয়াত আজকাল নাকি একেবারেই ঘুমোচ্ছেন না। রাতে পর রাত জেগেই কাটাচ্ছেন তিনি। তবে এর কারণ ছবির শুটিং কিন্তু একেবারেই নয়, এর কারণ পড়াশোনা। কঙ্গনা আপাতত নিউ ইয়র্কে ‘স্ক্রিন প্লে স্ক্রিপ্ট রাইটিং’ নিয়ে পড়ছেন আর তারই পরীক্ষা একেবারেই দোড়গোড়ায়। এই কারণেই বলিউডের কুইনের রাতের ঘুম উড়ে গেছে।
সব সময়ই নিজের সব কাজ অত্যন্ত মন দিয়ে করেন এই অভিনেত্রী। যে কাজই শুরু করেন সেটিকে শেষ করে তবেই তার শান্তি। এবার তিনি নিজের ফিল্মি ক্ষমতা আরও বাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছেন। সেই কারণেই দিন রাত এক করে পড়াশোনায় মন দিয়েছেন কঙ্গনা।
‘কুইন’ ছবিতে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন কঙ্গনা। এই ছবির পরই নিজেকে আরও পরিণত করতে তিনি নতুন করে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি নবাব সাইফের সঙ্গেও জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন কঙ্গনা। এবার দেখা যাক কঙ্গনার অভিনয় আরও কতটা পরিণত হয়। 

অনন্য মামুনের অন্য কৌশল!

‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ছবির দৃশ্য‘আমার তো একটা ঝামেলা আছে। পরিচালক সমিতি সম্প্রতি আমার সদস্যপদ বাতিল করেছে। এই মুহূর্তে তাই নিজের নামে ছবির শুটিং করতে পারছি না। আর সে জন্যই ছবির শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অন্য উপায় অবলম্বন করতে হচ্ছে। নতুন ছবি “ফ্রেন্ডশিপ”-এর শুটিং পরিচালক চন্দন চৌধুরীর নামে শুরু করছি। শুটিং চলাকালীন পরিচালক সমিতির সঙ্গে আমার ঝামেলা মিটে গেলে তখন নিজের নামে ছবিটি করে নেব।’ কথাগুলো ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ ছবির পরিচালক অনন্য মামুনের।
আদৌ এভাবে ছবি বানানো সম্ভব কি না, জানতে চাইলে প্রথম আলোকে মামুন বলেন, ‘কেন সম্ভব হবে না! যেহেতু আমার ওপর আপাতত নিষেধাজ্ঞা আছে, তাই এ উপায়টা বেছে নিয়েছি।’ মামুন আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি তাঁর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, শিগগির তা উঠিয়ে নেবে।
এদিকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘অনন্য মামুনের সদস্যপদ বাতিল করেছে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। তার পরও তিনি যে উপায়ে চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করতে চাচ্ছেন, তা কেবল অন্যায়ই নয়, প্রতারণাও বটে। মামুন যদি সত্যিই এভাবে চলচ্চিত্রের শুটিং করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব আমরা।’
মিম, মৌসুমী হামিদ ও কলকাতার হিরণকে নিয়ে আজ ২৮ জুন থেকে নতুন ছবি ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর শুটিং শুরু করতে চেয়েছিলেন অনন্য মামুন। কিন্তু মিমের হঠাত্ অসুস্থতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নিষেধাজ্ঞার কারণে ছবিটির শুটিং শুরু করতে পারছেন না তিনি।
চলচ্চিত্র জগতে অনন্য মামুনের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কথা দাও সাথি হবে’ ছবির কাহিনিকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে। অনন্য মামুন পরিচালিত প্রথম ছবি ‘মোস্ট ওয়েলকাম’। এরপর তিনি কলকাতার পরিচালক অশোক পতির সঙ্গে ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ ছবি নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া মামুন পরিচালিত ‘রোমান্স’ ছবির কাজ অর্ধেক হয়ে থেমে আছে।

ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনায় আপত্তি মুলারের

গোল্ডেন বুট নয়, দুরন্ত মুলারের চোখ বিশ্বকাপ শিরোপায়। ছবি: রয়টার্সপ্রথমবার যেদিন দেখা হয়েছিল, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ভেবেছিলেন তিনি ‘বলবয়’! আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেকের দিনে সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে রীতিমতো তাঁকে নামিয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ঘটনাটা গত বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগের। সেই টমাস মুলারকে এখন ভালো করেই চেনেন ম্যারাডোনা।
২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে প্রথম গোলটি করেছিলেন মুলার। ম্যারাডোনা যাকে বলবয় ভেবে ভুল করেছিলেন, ২০ বছর বয়সী সেই তরুণ গত আসরে জিতে নেন গোল্ডেন বুট, পান সবচেয়ে উদীয়মান খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও।
চার বছর পর মুলার আরও পরিপক্ব। ব্রাজিল বিশ্বকাপে এরই মধ্যে হ্যাটট্রিক করে ফেলেছেন। সমান চার গোল নিয়ে মেসি-নেইমারের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন তিনিও। একটা দিক থেকে ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন মুলার। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে মোট আটটি গোল করেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের নায়ক। অন্যদিকে ২৪ বছর বয়সী মুলারের গোলসংখ্যা এখন পর্যন্ত নয়টি। তাহলে কি তিনিই ‘জার্মানির ম্যারাডোনা’? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে আপত্তি জানালেন মুলার, ‘না, দয়া করে আমাকে এ নামে ডাকবেন না।’
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবছেন না বলেও জানিয়ে দিলেন মুলার, ‘গোলের রেকর্ড নিয়ে এই মুহূর্তে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি একবার গোল্ডেন বুট জিতেছি। দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চাই, যেটা এখনো আমি পাইনি।’ এএফপি।

প্রথম সপ্তাহেই 'এক ভিলেন' ৫০ কোটিতে

মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৫০ কোটি ছাড়িয়ে গেল ‘এক ভিলেন’এর ব্যবসার অঙ্ক। ট্রেড অ্যানালিস্ট করণ আদর্শের মতে ২০১৪ সালে ‘জয় হো’র পরে এটি দ্বিতীয় ছবি যেটি প্রথম উইকেন্ডেই ৫০ কোটির উপর ব্যবসা করেছে ৷ সিদ্ধার্থ মলহোত্রা, শ্রদ্ধা কাপুর ও রিতেশ দেশমুখের ‘এক ভিলেন’ এখনও অবধি ৫০.৭০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যেখানে সলমনের ‘জয় হো’ প্রথম উইকেন্ডে ৬০.৬৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। বালাজী মোশন পিকচার্সের ছবি ‘এক ভিলেন’কে গত ২৭ জুন ২,৫৩৯টি পর্দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এই ছবি শুক্রবার ১৬.৭২ কোটি, শনিবার ১৬.৫৪ কোটি ও রবিবার ১৭.৪৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে। ফিল্মের সাফল্যে পরিচালক মোহিত সুরি জানিয়েছে, ‘আমার হোম কোম্পানির বাইরে এটা আমার প্রথম ছবি আর এটি খুব ভাল রেসপন্স পেয়েছে’। ছবি মুক্তির আগেই জনপ্রিয় হয়েছিল ছবির গানগুলো। সবারই আশা খুব তাড়াতাড়ি এই ছবি ১০০ কোটির ক্লাবে নিজের নাম লেখাবে।

নেইমারকে ভালোবাসেন তিনি

এই গল্পে চরিত্র দুটি। একজন মিলিয়ন ডলারের ফুটবল তারকা। বিশ্বব্যাপী তাঁর সুনাম। খ্যাতি-অর্থ-বিত্তে তাঁর অবস্থান অন্য জগতে। অপরজন একজন সাধারণ তরুণী। ঘরের মলিন দেয়ালে প্রিয় তারকার সস্তা কিছু ছবি আর বুকভরা ভালোবাসা ছাড়া তার আর কিছুই নেই। কিন্তু সেই তরুণীর স্বপ্ন আকাশছোঁয়াই। যেকোনো মূল্যেই একবার স্বপ্নের তারকাকে ভালোবাসার কথা বলবে সে।
হাজারও এমন ভক্তের ভিড়ে কোনো এক ‘বিশেষ’ ভক্তও যে আছে নেইমারের, সে খোঁজ কি তিনি রাখেন?

গল্পটা বাস্তবেরই। ব্রাজিলীয় তরুণী রায়ালেন আনদ্রাদের স্বপ্নের তারকা নেইমার। কিন্তু তার ইচ্ছেটা ‘সিনেমাটিক।’ ১৭ বছর বয়সী এই তরুণীর স্বপ্ন, যে করেই হোক একটিবার সে চুমু খাবে তার ওই স্বপ্নের তারকাকে।

নেইমারের যেকোনো ছবি, পোস্টার, স্টিকার—সবই আছে তার সংগ্রহে। নেইমার ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে যে খবরই ছাপা হোক না কেন, তার কাছে সেটা খুঁজে পাওয়া যাবে। নেইমারকে নিয়ে তার উন্মাদনা হার মানায় উপন্যাসের গল্পগাথাকেও। নিজের মুখেই বলেছে তার জীবনে নেইমারের অবস্থান, ‘আমার প্রথমে ঈশ্বর, তারপর পরিবার আর তার পরেই নেইমার। এ ছাড়া আর কিছুই নেই আমার জীবনে।’

নেইমার এখন পুরো ব্রাজিলের স্বপ্ন-সারথি। রায়ালেনেরও তা-ই। পিঠে নেইমারের নাম লেখা জার্সি পরেই এই মুহূর্তে দিন-রাত কাটিয়ে দিচ্ছে এই তরুণী। খুব সাধ ছিল ব্রাজিল-ক্যামেরুন ম্যাচটা দেখার। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু, তাতে কি আর থেমে থাকে নেইমারের দেখা পাওয়ার সাধ! চিলির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের অনুশীলনে ঠিকই হাজির হলো সে—হাত নাড়িয়ে ডাকল ভালোবাসার স্বপ্নপুরুষকে।

যে নেইমারকে নিয়ে তার এত উন্মাদনা, এত মাতামাতি, সেই নেইমার কি কোনো দিন জানবেন তার কথা? সপ্তদশী তরুণীর বিশ্বাস, নেইমার নিশ্চয়ই জানেন তার কথা। সে শুধু একবার নেইমারকে বলতে চায় তার ভালোবাসার কথা! বিপদে-আপদে সব সময় পাশে থাকতে চায় নেইমারের।

নেইমারকে কবে থেকে ভালোবাসে রায়ালেন? সেই গল্প তার মুখ থেকেই শোনা যাক, ‘আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ১২ বছর বয়সে আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। হাঁটাচলার সামর্থ্যও আমি প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। অসুখটা আমাকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছিল। ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। বিছানায় শুয়ে-বসেই কাটিয়ে দিতে হতো দিনগুলো। সে সময় সারা দিনই ইন্টারনেটে সময় কাটতো। ওই সময় আমি আসক্ত হয়ে পড়ি নেইমারের প্রতি।’

রায়ালেনের ওই বন্ধুবিহীন সময়ের একমাত্র সঙ্গী ছিলেন নেইমার। আক্ষরিক অর্থে এখনো তাঁর সঙ্গী নেইমার। একাকিত্বের ঘেরাটোপে বন্দী এই তরুণীর জীবনের সবকিছুই নেইমারকে কেন্দ্র করে। তাঁর সাফল্যেই তার আনন্দ। তাঁর ব্যর্থতা রক্তক্ষরণ ঘটায় তার হূদয়ে। নেইমারের হাসিতে সে খুঁজে পায় তার জীবনের অর্থ।
নাটক-সিনেমার গল্প তো জীবন থেকেই নেওয়া। রায়ালেনের এই ভালোবাসার গল্প ভবিষ্যতে কোনো নাটকীয় মোড় নেয় কি না, সেটা কে-ই বা বলতে পারে।

স্বামীর সামনে সানি লিওনকে চুম্বন

স্বামীর সামনেই স্ত্রী সানিকে চুম্বন করছেন অন্য পুরুষ আর পাশেই স্বামী হাসছেন! আজব তো! একটি ফ্যাশন শো চলাকালে এমন ঘটনাই ঘটেছে।
'ডিজাইনার রোহিত ভার্মা ফ্যাশন শো' শেষে এমনই ঘটনা ঘটেছে। এই ফ্যাশন শোর আকর্ষণ ছিলেন সানি লিওন। অনুষ্ঠান শেষে সানি লিওনকে গলায় হাত দিয়ে আলিঙ্গন করে চুম্বন করেন রোহিত ভার্মা। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সানির স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার। তাঁর মুখে তখন হাসি। আর রোহিতের এই আবেগপূর্ণ ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন এক সময়ের পর্ন তারকা সানি লিওন।

খলনায়ক থেকে নায়ক

‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ করলেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার। খলনায়ক থেকে এখন নায়ক তিনি। ২০১০-এর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন সিজার। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্রাজিল হেরেছিল তার ভুলে। ব্রাজিলের প্রথম গোলটি হজমে এখনও তাকে দায়ী করা হয়। সেই যন্ত্রণা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল এতদিন। যন্ত্রণা মোচন করার দারুণ সুযোগ পেলেন এ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে চিলির বিপক্ষে। ম্যাচ গড়ালো টাইব্রেকারে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নির্ভর করছে তখন দুই গোলরক্ষকের নৈপুণ্যের ওপর। টাইব্রেকারের লটারির আগে সিজার কাঁদলেন। কাঁদলেন পরেও। তবে দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। টাইব্রেকার শট নেয়ার আগে নাকি তিনি অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে বলেছিলেন- আজ আমিই ম্যাচের নায়ক হবো। কমপক্ষে তিনটি শট রুখে দেয়ার প্রত্যয়ও নাকি তখন তিনি সিলভার সামনে দেখিয়েছিলেন। সত্যি সত্যিই ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নায়ক হয়ে গেলেন কুইন্স পার্ক রঞ্জার্সের এই ব্রাজিলীয় গোলরক্ষক। কথামতো তিনটি না পারলেও প্রতিপক্ষের দু’টি শট রুখে দেন তিনি। এতে ব্রাজিল ৩-২ গোলে জিতে মুখ রাখতে সক্ষম হয়েছে। সিজারের টাইব্রেকার শট ঠেকানোর গুণ বেশ পুরনো। তবে এদিন তিনি যা করলেন তা এক কথায় অসাধারণ। এমন দারুণ নৈপুণ্যের প্রতিদানস্বরূপ ম্যাচসেরার স্বীকৃতিটাও পেয়েছেন সিজার। ম্যাচ শেষে টেলিভিশনের সামনে কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। চোখ ভরে উঠেছিল পানিতে। ঠোঁট কামড়ে কান্না নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করে সাংবাদিকদের নিজের মনের কথা জানালেন। বলেন, ‘২০১০ এর ঘটনার পরও ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা আমার জন্য চিৎকার করে গেছে। আমাকে নিয়ে তারা আশা করেছে। ২০১০-এর ঘটনার পর আমি খলনায়ক হয়ে গিয়েছিলাম। নিজের কাছেও ব্যাপারটি ছিল খুবই দুঃখের। আমি এতদিন অনুতপ্ত হয়ে সে ব্যাপারে কোন কথা বলিনি। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মা-বাবা আমাকে প্রেরণা দিয়ে গেছেন। তাদেরসহ ২০০ মিলিয়ন ব্রাজিলীয়র কাছে আমাকে সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ। ব্রাজিলীয়রা হয়তো আমার কাছ থেকে এটাই আশা করেছিল। আমি অনেক খুশি। অবশেষে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারলাম।’    

গ্রুপ পর্বে রেকর্ড পরিমাণ টিভি দর্শক

বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে লড়াইয়ের সময় পুরো বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ টিভি দর্শক বেড়েছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথম পর্বে ৮টি গ্রুপ লড়াই করে। প্রথম পর্বের লড়াইয়ের পর শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্বের লড়াই। বর্তমানে ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে পুরো বিশ্ব। আর শুধু গ্রুপ পর্বে খেলার সময় গ্লোবাল টিভি দর্শকের পরিমাণ ২০১০ বিশ্বকাপের তুলনায় ৩.২ বিলিয়ন বেড়েছে বলে দাবি করেছে ফিফা। সংস্থাটির টিভি ডাইরেক্টর নিকোলাস এনিকসন বলেন, ‘ব্রাজিল বিশ্বকাপে মোট দর্শকের পরিমাণ দেখে আমাদের বিশ্বাস ফুটবল যে এক নম্বর ও সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা সেটা আবারও প্রমাণ হচ্ছে। এ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের টিভি দর্শকের পরিমাণই বেশি দেখা যাচ্ছে। আমেরিকার দর্শকদের উন্মাদনা এর আগে এত বেশি কখনো দেখিনি। এ ক্ষেত্রে এশিয়া ও ইউরোপের দর্শকদের উন্মাদনাও কম নয়। তাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ব্রাজিল বিশ্বকাপ টিভি দর্শকদের কাছে এযাবৎ কালের সেরা টুর্নামেন্ট হবে’। 

এক নজরে টিভি দর্শকের পরিমাণ
ম্যাচ    দর্শক (মিলিয়ন)
ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া    ৪৭.৪
যুক্তরাষ্ট্র-পর্তুগাল    ২৪.৭
ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড    ১৬.৭
হল্যান্ড-চিলি    ৮.১
জার্মানি-যুক্তরাষ্ট্র    ২৭.৩
ইতালি-উরুগুয়ে     ১৯.৩
ইংল্যান্ড-উরুগুয়ে    ১৭.৯
স্পেন-চিলি    ১৩.২
জাপান-আইভরিকোস্ট    ৩৪.১

এবার মসলায় কমবে হাইপারটেনশন!

কয়েক ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি ওষুধ ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে ইঁদুরের রক্তচাপ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা, যাঁর মধ্য দিয়ে ক্রনিক হাইপারটেনশনের চিকিৎসায় তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন নতুন আশার আলো৷

এই গবেষক দলের নেতা কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ এস থানিকাচালাম জানান, ভারতীয় উপমহাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত সাধারণ মসলা ব্যবহার করেই তাঁরা এ গবেষণা চালিয়েছেন৷ আদা, এলাচ, জিরা, মরিচ বা লঙ্কা, শ্বেতপদ্মের পাপড়িসহ কিছু উপাদান মিশিয়ে তাঁরা ইঁদুরকে খেতে দিয়েছেন খাবারের সঙ্গে৷

গবেষণায় আমরা দেখেছি, ওই খাবারে ইঁদুরের শারীরবৃত্তীয় কর্মকাণ্ডে অনেক পরিবর্ত এসেছে৷ বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটা কমে এসেছে৷

থানিকাচালাম চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান৷ তিনি জানান, তাঁদের তৈরি করা ওষুধে কেবল ইঁদুরের রক্তচাপই নিয়ন্ত্রণে আসেনি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস-ও কমে এসেছে৷

ভারতের গবেষকরা মূলত কাজ করেছেন রেনোভাসকুলার হাইপারটেনশন নিয়ে৷ কিডনির ধমনী সরু হয়ে গেলে এ ধরনের হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়৷

ভারতে হাইপারটেনশন খুব সাধারণ একটি রোগ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের শহর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতি চার জনে একজন হাইপারটেনশনের রোগী৷ কিন্তু ওষুধের উচ্চমূল্য ও বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেকেই নিয়মিত চিকিৎসা নেন না৷

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ভারতীয় মসলা নিয়ে গবেষণা এটিই প্রথম নয়৷ এর আগে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, স্ট্রোকের পর মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে হলুদ ভালো ফল দিতে পারে৷

থানিকাচালাম জানান, এবারের গবেষণায় তাঁরা মসলার যে মিশ্রণটি ব্যবহার করেছেন, প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যেও তার উল্লেখ রয়েছে৷

এ ধরনের ভেষজ ওষুধের ব্যবহার আমাদের এখানে চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে৷ বিজ্ঞানসম্মতভাবে এর ব্যবহারবিধি তৈরি করার কাজটিই কেবল বাকি৷

বিজ্ঞানীরা এখন দেখবেন, এই ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ইঁদুরের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর৷ এরপর তা পরীক্ষা করা হবে মানুষের ওপর৷ থানিকাচালাম জানান, দামে কম এবং কার্যকর একটি ওষুধ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য৷

তাঁদের গবেষণাপত্রটি চিকিৎসা সাময়িকী এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি অ্যান্ড মেডিসিনের জুন সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়৷

ইরাক ও সিরিয়ায় ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ কায়েমের ঘোষণা বিদ্রোহীদের

ইরাক ও সিরিয়ার দখলকৃত বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের ঘোষণা দিয়েছে কট্টরপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভেন্ট (আইএসআইএস)। ইন্টারনেটে পোস্ট করা একটি অডিও বার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহী সংগঠনটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।  বিদ্রোহীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন খলিফা এই রাষ্ট্রের শাসনভারের দায়িত্বে থাকবেন। ইসলামিক রাষ্ট্রটির নাম হবে ‘দ্য ইসলামিক স্টেট’। নতুন রাষ্ট্রের ব্যাপ্তি, বিস্তৃতি বা সীমানা হবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো থেকে ইরাকের পূর্বাঞ্চলীয় দিয়ালা প্রদেশ পর্যন্ত। আইএসআইএস’র ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিদ্রোহী সংগঠনটির নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি খলিফার দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ‘খলিফা ইব্রাহিম’ নামে পরিচিতি পাবেন। ওই অডিও বার্তায় ‘সর্বত্র মুসলমানদের নেতা’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয় তাকে। খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কট্টরপন্থীদের বহুদিনের লক্ষ্য ছিল। অপর এক খবরে বলা হচ্ছে, ইরাকের বহু অংশে সুন্নি বিদ্রোহীদের অগ্রসর ও দখল প্রতিষ্ঠার খবরে ইসরাইল স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইরাকি সেনাবাহিনী আইএসআইএস’র দখলে থাকা উত্তরাঞ্চলীয় তিকরিত শহরে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ১১ই জুন বিদ্রোহীরা শহরটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এ সময় দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হামলা চালিয়ে সেখানে দখল প্রতিষ্ঠা করে আইএসএস।

রোবেনের পক্ষেই সম্ভব

অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি গোলে স্বপ্নচূর্ণ হয়ে গেল মেঙিকোর। আরিয়েন রোবেনকে থামাতে গিয়ে পেনাল্টির ফাঁদে পড়ে উত্তর আমেরিকার দেশটি। খেলায় তখন ১-১ এ সমতা। সবার অপেক্ষা অতিরিক্ত সময়ের। পানি পান ও খেলোয়াড় বদলে নষ্ট হওয়া সময় মেটাতে খেলার পরিধি আরও ছয় মিনিট বাড়িয়ে দেন রেফারি। তারই দ্বিতীয় মিনিটে অপ্রতিরোধ্য আরিয়েন ঢুকে পড়েন মেঙিকান শিবিরে। দু’জন ডিফেন্ডার তাকে ফেরানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না। কর্নার লাইনে গিয়েও রোবেন যখন ফের বল নিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ঠিক তখন তার সামনে পা বাড়িয়ে দেন রাফায়েল মার্কেস। আর তাতে পড়ে যান রোবেন। বঙের মধ্যে রোবেনকে ফেলে দেয়ার কারণে পেনাল্টির নির্দেশ দেন পর্তুগালের রেফারি পেদ্রো প্রোয়েনসা। হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করে দেন রাফায়েল মার্কেসকে। এরপর রেফারির সঙ্গে তর্ক করায় মেঙিকান গোলরক্ষককেও হলুদ কার্ড দেখান তিনি। তবে রোবেনের পড়ে যাওয়ার ধরণে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্লাস-ইয়ান হুন্টলার ঠা-া মাথায় গোল করে উল্লাসে মাতান কমলা শিবিরে। রবিন ফন পার্সির পরিবর্তে মাঠে নামা হুন্টলার সাত বার বলে ছোঁয়া দেন যার ফলে একটি গোল পান এবং একটি গোলে সহায়তা দেন। নাটকীয় এই জয়ে গতবারের রানার্স আপ নেদারল্যান্ডস উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। এ নিয়ে টানা ছয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভাঙলো তাদের। এর আগে মেঙিকো ১৯৯৪ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার কাছে, ১৯৯৮ সালে জার্মানির কাছে, ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, ২০০৬ ও  ২০১০ সালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে দ্বিতীয রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়। সর্বশেষ ১৯৮৬-তে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে। 
এর আগে ৪৮ মিনিটে দস সান্তসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মেঙিকো। পরে ৮৭ মিনিটের সময় ওয়েসলি স্নেইডারের গোলে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে হল্যান্ড। তার আগ পর্যন্ত ডাচদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছিল মেঙিকো। কিন্তু হঠাৎ এলোমেলো হয়ে গেল সব। প্রায় ৬০ হাজার দর্শক দারুণ উপভোগ করেন খেলার প্রতিটি মুহুর্ত।
ফোর্তালেজায় এস্তাদিও কাস্তেলাওতে কোন দলই গোল করতে পারেনি বিরতি পর্যন্ত।  প্রথমার্ধে মেঙিকোই বেশি আক্রমণ করেছে। গরমে ডাচ খেলোয়াড়রা হাঁপিয়ে উঠলেও মেঙিকানরা তুলনামূলক ভাল ছিল। ৪২ মিনিটের সময় নেদারল্যান্ডসকে একটি নিশ্চিত গোলের হাত রেখে রক্ষা করেন গোলরক্ষক কিলেসেন। অন্তত ছয়বার তারা গোলে শট নেয় আর একবার নেয় ডাচরা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে সান্তসকে বসিয়ে ভিয়ারিয়ালে তার সতীর্থ হাভিয়ার আকুইনোকে নামান মেঙিকান কোচ হেরেরা। ফরোয়ার্ডকে উঠিয়ে মিডফিল্ডার নামান রক্ষণাত্মক হয়ে যাওয়ার জন্য। তবে প্রথমার্ধে নেদারল্যান্ডসও রক্ষণাত্মক খেলে। মেঙিকান আক্রমণ ঠেকাতে তাদের সাতজনকে দেখা যায় নিচে নেমে খেলতে। রোবেন-রবিন দুজনকেই বেশ নিসপ্রভ মনে হয়। দূরপাল্লার কিছু শট নিলেও তা গোলরক্ষককে বিব্রত করতে পারেনি। 
দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের মাথায় উত্তর আমেরিকার এ দলকে এগিয়ে দেন ১০ নম্বর জার্সিধারী জিওভানি দস সান্তস। জটলার মধ্য থেকে আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো বল বাড়িয়ে দেন সান্তসকে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের শটে তিনি পরাস্ত করেন ডাচ গোলরক্ষককে। এটি সান্তসের ২ বছরে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। গোল খাওয়ার পর থেকেই মরিয়া খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস। ডিফেন্স ভেদ করলেও গোলরক্ষক ওচোয়া যেন প্রাচীর তুলে দাঁড়ান। ৭৪ মিনিটের সময় গিলার্মো ওচোয়া ফের মেঙিকোকে রোবেনের হাত থেকে রক্ষা করেন। একেবারে ছোট বঙের ভেতর থেকে এমন অবস্থায় শতকরা নিরানব্বই বার গোল করার নজির রয়েছে রোবেনের। ডিফেন্ডার রাফায়েল মার্কেজ ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্ত ওচোয়া রোবেনের শট ফিরিয়ে দেন কর্নারের বিনিময়ে। 
৭৬ মিনিটের সময় হাঁপাতে থাকা রবিন ফন পার্সিকে উঠিয়ে নেয়া হয়। এরপরই রেফারি পানি পানের বিরতি দেন ফের। খেলা যখন শেষের দিকে তখন গোল পরিশোধ করে হল্যান্ডকে খেলায় ফেরান ১০ নম্বর জার্সী ধারী ওয়েসলি স্নেইডার। এটি ছিল বিশ্বকাপে স্নেইডারের ১৫তম খেলা আর পার্সির ১৪তম।
পানি পানের বিরতি: ক্রিকেটে পানি পানের বিরতি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ফুটবলে এটা ব্যাতিক্রমই। গতকাল ৪০ ডিগ্রি সেলসিযাস তাপমাত্রায় ভর দুপুরে খেলোয়াড়দের জন্য ‘কুলিং ব্রেক’-এর বিকল্প ছিল না। খেলার ৩২ মিনিটের সময় প্রচ- গরমের কারণে খেলা থামিয়ে পানি খাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় খেলোয়াড়দের। কোচদের এ সময় মাঠের মধ্যে ঢুকতে দেয়া হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও পানি পানের বিরতি দেয়া হয়। তখন অবশ্য কোচদের দেখা যায় খেলোয়াড়দের পাশে। 
বিস্ময়কর পরিবর্তন:  খেলার মাত্র নবম মিনিটেই নেদারল্যান্ডস কোচ লউস ফন গাল খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। নাইজেল ডি জংকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় ব্রুনো মার্টিনো ইন্ডিকে। নাইজেল আঘাত পেয়েছেন বলেও মনে হয়নি। এজন্য বের হওয়ার সময় তার মুখে বিরক্তির ছাপ দেখা গেছে। দর্শকদের মধ্যে বিষয়টি বিস্ময়ের সৃস্টি করে।

সুইস ব্যাংকের টাকা বের করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি বিএনপির

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের কার কত টাকা আছে- তা বের করতে আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা দুর্নীতির টাকায় কানাডার বেগমগঞ্জে বাড়ি বানিয়েছেন। মানি লন্ডারিংয়ের টাকা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লন্ডনে পাচার করেছেন। এখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, সুইস ব্যাংকের বাংলাদেশীদের টাকার তদন্ত করে তালিকা প্রকাশ করবেন। আমরা বলতে চাই, আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কার কত টাকা আছে তা বের করা হোক। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কমিশনার চৌধুরী আলম গুমের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে শাহবাগ থানা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান। মির্জা আলমগীর বলেন, সুইস ব্যাংকের টাকার ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য আমরা আওয়ামী লীগকে বলবো না। কারণ সুইস ব্যাংকে আওয়ামী লীগের লোকেদের সবচেয়ে বেশি টাকা রয়েছে। তারা এর তদন্ত করলে সত্য বের হবে না। ‘চৌধুরী আলমকে র‌্যাবই গুম করেছে’ অভিযোগ করে মির্জা আলমগীর বলেন, চৌধুরী আলমকে যে র‌্যাব গুম করেছে তার যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। কারণ, ২০১০ সালের ২০শে জুন গুলশানে দু’জন লোক চৌধুরী আলমকে আটকের চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। তখন র‌্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে লোক তাদের র‌্যাব সদস্য শনাক্ত করে নিয়ে যায়। এরপর ২৫শে জুন ফার্মগেটের রাজাবাজার র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে চৌধুরী আলমকে তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত আমরা তাকে খুঁজে পাইনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন,  চৌধুরী আলম গুম হওয়ার পর বিএনপি যথাযথ আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় একের পর এক নেতাকে গুম করা হচ্ছে। প্রথম থেকে গুমের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে, প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হতো। দুর্ভাগ্য, আমরা সেই আন্দোলন গড়ে তুলতে পারিনি। গুমের ভয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন তারাও ভীত হয়ে পড়েছেন। ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে গুমের রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন’ মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা শুনলে গা শিউরে ওঠে। সেই শামীম ওসমানের পক্ষে কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিরপুরের কালশীতে শবেবরাতে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে ৯ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনার এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আর এর বিচার হবেও না। কারণ ওই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনই জড়িত। ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের অবস্থা এ রকম হবেই। মহানগর নেতাকর্মীদের গুম-খুনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড নেতাকর্মীর নামে মামলা রয়েছে। তবুও তাদের জেগে উঠতে হবে। গুম-খুন প্রতিরোধ করতে প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় দুর্ভেদ্য সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।  বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা হলো লুণ্ঠনের বাজেট। লুটপাট করার জন্য তারা বাজেট দিয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, গৃহপালিত বিরোধী দল নিয়ে একটি কিম্ভূতকিমাকার সংসদ গঠন করেছে। কিন্তু এদেশের মানুষ বোকা নয়। তারা ভেতরে ভেতরে  ক্ষোভে ফুঁসছে। যে কোন সময় এই সরকারের বিরুদ্ধে জনবিস্ফোরণ ঘটতে পারে। সমাবেশে চৌধুরী আলমের বড় মেয়ে মাহমুদা আক্তার মনিকা বক্তব্য দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, বাবাকে তো হারিয়েছি। আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় আছি।  কেউ যেন আমার বাবার মতো অপহৃত না হন। মনিকা বলেন, আমার বাবা এখনও ফিরে আসেনি। আমরা বাবার অপেক্ষায় আছি। আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। এছাড়া সমাবেশে চৌধুরী আলমের স্ত্রী হাসিনা চৌধুরী, ছোট মেয়ে মাহফুজা আক্তার, ছোট ভাই খোরশেদ আলম মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। শাহবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসান তালুকদার ননীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, নবী উল্লাহ নবী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি: মৃধাকে বাদ দিয়ে দুদকের অভিযোগপত্র

চট্টগ্রামে আলোচিত সেই রেলওয়েগেট-কেলেঙ্কারির দু’টি অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ইউসুফ আলী মৃধাকে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বরখাস্ত হওয়া সাবেক জিএম মৃধাকে বাদ দিয়ে গতকাল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এতে রেলের রেকর্ড কিপার ও গুডস সহকারী গ্রেড-২ পদে নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। 
সূত্র জানায়, আগামী ২৭শে আগস্ট অভিযোগপত্র দু’টি গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। গতকাল দুপুরে আদালতে মামলা দু’টির অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। তবে এসব মামলায় মৃধা ছাড়া বাকিদের আসামি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি এডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, সব কিছু যাচাই-বাছাই করে মৃধাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল সেসব বিষয়ে কোন ধরনের সত্যতা পায়নি দুদক।’
তবে কেবল রেকর্ড কিপার ও গুডস সহকারী গ্রেড-২ পদে নিয়োগ নয়, মৃধার বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে উঠেছিল বিস্তর অভিযোগ। খাতা ঘষামাঝার মাধ্যমে নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল একাধিক ব্যক্তিকে। টুলকিপার ও টিকিট ইস্যুয়ার পদে নিয়োগ দেয়া এ সব ব্যক্তির কাছ থেকে নেয়া হয়েছে জনপ্রতি সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল শাখায় এ ভাবেই নিয়োগ-বাণিজ্য করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছিলেন বরখাস্ত হওয়া জিএম ইউসুফ আলী মৃধা। 
চট্টগ্রামে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পদবঞ্চিতরা। বলেছেন, রেলের সাবেক জিএম ও তার সিন্ডিকেট টুলকিপার-টিকিট ইস্যুয়ার পদে ভয়াবহ দুর্নীতি করেছেন। টাকার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের। 
ইউসুফ আলী মৃধা ছাড়াও আরও ৬ মামলায় আসামি হলেন রেলওয়ের সাবেক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, নিয়োগ পাওয়া প্রার্থী শাহীন শাহ, হাফিজুল, এস এম আজিজুল হক, সাইদুর রহমান, রবিউল হাসান ও আশরাফুল ইসলাম। 
ভুক্তভোগীরা জানান, ৭০ লাখ টাকার বস্তাসহ ধরা পড়ার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া চট্টগ্রাম রেলের সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধার সুষ্ঠু শাস্তি চান তারা। টুলকিপার, টিকিট ইস্যুয়ার ছাড়াও রেলওয়ের ফুয়েল চেকার পদে তারা লোক নিয়োগের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মৃধাকে দেয়া হতো। ধরা পড়ার আগে টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতেন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের জিএম ইউসুফ আলী মৃধা। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার নানা অপকর্ম ফাঁস হতে শুরু করেছে। রাস্তায় নেমে এসেছেন ভুক্তভোগীরা। শাস্তি দাবি করেছেন চট্টগ্রাম রেলের একাধিক শ্রমিক-কর্মচারীও। তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এ ব্যক্তিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। 
জানিয়েছেন, কিছুতেই তাকে আর স্বপদে ফিরতে দেয়া হবে না। মুখ খুলতে শুরু করেছেন এতদিন নিশ্চুপ থাকা রেলওয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা পেশার লোকজন। সবারই এক দাবি, রেলওয়ে জিএমের পদত্যাগ। তার শাস্তি।

দুর্দান্ত রদ্রিগেস কলম্বিয়ার ইতিহাস

অবিশ্বাস্য কলম্বিয়া! অসাধারণ জেমস রদ্রিগেস। দৃষ্টিনন্দন দু’টি গোল। আর এরই মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো কলম্বিয়া। তাও যেনতেন দল নয়, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে। উরুগুয়ে দু’বার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দল হলেও কলম্বিয়া চারবারের প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার রেকর্ড ছিল ১৯৯০ সালে। তবে এদিন মিডফিল্ডার জেমস রদ্রিগেসের দৃষ্টিনন্দন নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো তারা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ব্রাজিল, যারা শনিবার শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে চিলিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। লুইস সুয়ারেজবিহীন উরুগুয়ে যে ম্যাড়মেড়ে হবে তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। দ্বিতীয় রাউন্ডে তার প্রমাণ আবারও হাতেনাতে পাওয়া গেল। গত বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইসহ উরুগুয়ে ২২ ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে হেরেছে মাত্র পাঁচ ম্যাচে। এই পাঁচ হারের চারটিতেই সুয়ারেজ মাঠে ছিলেন না। আর এখন কামড়-কর্মের পর ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়ে দেশে ফিরে গেছেন সুয়ারেজ। এই সুযোগে দারুণ করে দেখালো কলম্বিয়া। কলম্বিয়ার এ জয়ের নায়ক জেমস রদ্রিগেজ। ম্যাচের দু’টি গোলই এসেছে তার পা থেকে। এই নিয়ে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে গোল করলেন তিনি। এর আগে সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদো। আর বিশ্বকাপ অভিষেকে টানা চার ম্যাচে গোল করার রেকর্ডটিও ছুঁয়েছেন রদ্রিগেস। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকে টানা চার ম্যাচে গোল করেছিলেন ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরি। রদ্রিগেস এই ২ গোলের মাধ্যমে এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সোনার বুট জেতার লড়াইয়ে এগিয়ে গেলেন। ৪ ম্যাচে ৫ গোল করে সবার ওপরে আছেন তিনি। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমার আর জার্মানির টমাস মুলার চার গোল করে আছেন তার পরে।
এদিন ম্যাচের ২৮ মিনিটের মাথায় অসাধারণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন রদ্রিগেস। বক্সের বাইরে থেকে আবেল আগিলারের হেড বুক দিয়ে নামিয়ে বাঁ পায়ের দর্শনীয় ভলিতে মোনাকো মিডফিল্ডার করেন বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল। এ গোলটি শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়, হয়তো ঠাঁই পাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা গোলের তালিকায়ও। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কলম্বিয়া-উরুগুয়ে। বিরতির চার মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে কলম্বিয়া। এবারও গোলদাতা সেই রদ্রিগেস। বাঁ প্রান্ত থেকে পাবলো আমেরোর ক্রসে হেড করে রদ্রিগেসের দিকে বল বাড়িয়ে দেন হুয়ান কুয়াদ্রাদো। গোলবারের ঠিক ছয় গজ দূর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের শটে রদ্রিগেস বল পাঠান উরুগুয়ের জালে। এদিন লুইস সুয়ারেজের অনুপস্থিতিতে উরুগুয়ের আক্রমণভাগ ম্যাচের বেশিরভাগ সময়েই ছিল নখদন্তহীন। সুযোগ তৈরি করেছে অনেকবার কিন্তু কাছে লাগাতে পারেনি একবারও। কলম্বিয়ার গোলমুখে এদিন তারা ১৬ বার শট নেয়। যার মধ্যে ৪টিই ছিল অন টার্গেটে। কিন্তু কাজে আসেনি একটাও। অন্যদিকে কলম্বিয়া উরুগুয়ের গোলবারে ৯টি শট নিয়ে ৪টিই অন টার্গেটে পাঠায়। আর এর মধ্যে দু’বার তারা সাফল্য পায়। উরুগুয়ে সেরা সুযোগ বলতে ৮৪ মিনিটে এডিনসন কাভানির জোরালো শট। যেটা কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ডেভ অসপিনা ফিরিয়ে দেন দুর্দান্ত দক্ষতায়। এদিন রদ্রিগেসের দ্বিতীয় গোলের যোগান দেন কুয়াদ্রাদো। ইতিহাসে ঢুকে গেছেন তিনিও। ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালির ফ্রান্সিসকো টোট্টি ও আর্জেন্টিনার হুয়ান রিকুয়েলমে এক বিশ্বকাপে চার গোলের অ্যাসিস্ট করেন। আর কলম্বিয়ার কুয়াদ্রাদো এবার চার ম্যাচেই সে রেকর্ড ছুঁলেন। 

হেরেও সন্তুষ্ট সাম্পাওলি

বারের বিশ্বকাপের টপ ফেভারিট স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে চিলি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়লেও খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট দলটির কোচ হোসে সাম্পাওলি। ম্যাচ শেষে সাম্পাওলি বলেন, আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত। চিলির জন্যে আমি গর্বিত। (স্তাদিও মিনেইরাওয়ে) স্টেডিয়ামে সবাই আমাদের বিপক্ষে ছিল কিন্তু আমরা আমাদের সবকিছু দিয়েছি, কঠিন লড়াই করেছি। খেলোয়াড়েরা আমাদের দেশকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। শনিবার বেলো হরিজন্তের স্তাদিও মিনেইরাওয়ে শুরু থেকেই ব্রাজিলের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করেছে চিলি। ১৮তম মিনিটে ডেভিড লুইসের গোলে পিছিয়ে পড়লেও ১৪ মিনিট পরেই আলেক্সিস সানচেসের গোলে সমতায় ফেরে তারা। তারপর ম্যাচজুড়েই বল দখলে এগিয়ে ছিল চিলি। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে সানচেসের পাস থেকে মুরিসিও পিনিইয়ার শট ক্রসবারে না লাগলে তো জিতেই যেত তারা। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। তাই হেরে গেলেও শিষ্যদের চেষ্টায় মুগ্ধ কোচ সাস্পাওলি। ‘আমাদের দল প্রায় জিতেই গিয়েছিল। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে জয় হিসাব করা হয় না।’ হারলেও প্রাণপণ প্রচেষ্টায় সান্ত্বনা খুঁজে নিচ্ছেন কোচ কিন্তু মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদাল সেটা পারছেন না। ‘আমরা একটা স্বপ্নের জন্য লড়াই করেছি। মাঠেই আমরা আমাদের জীবনটাকে ফেলে এসেছি।’

ডিভোর্সি স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম, অতঃপর...

বিয়ের পর বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন শাহীন। ডিভোর্সের পর স্ত্রী রত্না বিয়ে করেছিলেন অন্য একজনকে। দ্বিতীয় বিয়ের পর রত্না ফের আগের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। আর এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় শাহীনের জন্য। রত্নার স্বামীর হাতে খুন হতে হয় শাহীনকে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে  মোবাইল ফোনে কথা বলতেন শাহীন। তাদের এই যোগাযোগ ধরে ফেলেন রত্নার স্বামী টুটুল। এরপরই টুটুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শাহীনের ওপর। স্ত্রীর সঙ্গে শাহীনের এই সম্পর্ক সহ্য করতে না পেরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে শাহীনকে। রাজধানীর খিলগাঁও ৭৬ নম্বর মেরাদিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সেদিন টুটুল শাহীনের বাসায় গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। অন্য বাসার ছাদে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে অনেক সময় বাগবিত-া চলে। একপর্যায়ে শাহীন বিষয়টিকে শান্ত করার জন্য টুটুলকে বলে তার রুমে চলে যান। তবে টুটুল শাহীনের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। শাহীন বাঁচার জন্য নিজেই ঘরের দরজা খুলে বের হয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মৃত্যু হয় তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনে তাদের পরকীয়া চলছিল। আর এই ঘটনা টুটুল হাতেনাতে ধরে ফেলে। সবার অগোচরে চালিয়ে যাওয়া প্রেম টুটুলের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাহীনের স্ত্রী রুবি জানান, ১১ বছর আগে রত্নার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল শাহীনের। বছর যেতে না যেতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এর কারণ হলো শাহীনের পরিবার ও রত্নার পরিবার তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। রত্নার পারিবারিক অবস্থা অনেক ভাল ছিল আর শাহীনের তেমন কিছুই ছিল না। বিলবোর্ডের কাজ করে সংসার চালাতো। একদিন কাজ করলে ১০ দিন বসে থাকতো। এসবের কারণে তাদের দুই পরিবারর মধ্যে অনেক ঝগড়া হতো। অনেক বিচারও হয়েছে। এসবের একপর্যায়ে রত্নার পরিবার ডির্ভোস করিয়ে নেয়। এরপর তাদের মধ্যে কোন ধরনের যোগাযোগ হয়নি। তখন আমার সঙ্গে পরিচয় হয় শাহীনের। আমি গার্মেন্টে কাজ করতাম। দুজনের বাসা ছিল পাশাপাশি। এই সুবাদে প্রতিদিন দেখা হতো। এই দেখা থেকেই পরিচয়, প্রেম ও পরিণয়। সেই সময় রত্নারও টুটুলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। ভালই চলছিল দুজনের সংসার। রত্নাদের বাসাও ছিল আমাদের পাশে। প্রতিদিন দেখা হতো আমাদের দুই পরিবারের। রুবি বলেন, রত্নার স্বামী টুটুলের সঙ্গেও আমার বাবার বাড়ির সবার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। প্রায় দিনই সেই বাসায় বেড়াতে আসতো। আমিও তার সঙ্গে কথা বলতাম। তবে আমার স্বামী ও রত্নার মধ্যে যে আবার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা আমি জানতাম না; এমনকি কোনদিন বুঝতেও পারিনি। রুবি বলেন, ওই রত্নাই নিজ থেকে শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সে এলাকার ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে শাহিনের নাম্বার সংগ্রহ করে। এরপর প্রায়ই অপরিচিত হিসেবে শাহীনকে ফোন দিতো আর বলতো আপনি আমাকে চিনবেন না আমি আপনাকে খুব ভালভাবে চিনি। তাদের প্রেমের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত সোমবার এসব কথা আমাকে শাহীন নিজেই বলেছিল। এই কথাগুলো শুনার পর আমি শাহীনের ওপর রাগ করে আমার চাচার বাসা মহাখালীতে চলে যাই। তবে আমার জানা মতে এখানে শাহীনের কোন দোষ ছিল না। রত্না নিজে থেকেই এই ঘটনাগুলো করেছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই সাব্বির বলেন, পরকীয়ার কারণেই এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। শাহীন ১০ বছর আগে ডির্ভোস দেয়া স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি রত্নার বর্তমান স্বামী জানতে পেরে শাহীনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। যার ফলে গত বুধবার রাতে টুটুল এই হত্যাকা- ঘটনায়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় শাহীনের স্ত্রী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। 

রওশনকে প্রধানমন্ত্রী: আপনিতো বিদেশী পানি পান করেন

খাদ্যে ভেজাল প্রসঙ্গে বক্তৃতা দেয়ার এক পর্যায়ে সংসদের বিরোধী নেতা রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনিতো ভাল পানি খাচ্ছেন বুঝতে পারছেন না। অন্যদের জিজ্ঞাসা করেন পানির কি অবস্থা। মানুষ যদি সুস্থ না থাকে তাহলে আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বেন কিভাবে? রওশনের এ বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জবাব দিয়ে রওশনের উদ্দেশে বলেন, আমিতো দেশের পানি খাই। আপনিতো বিদেশী পানি খাচ্ছেন। উনার টেবিলে বিদেশী পানির বোতল। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য দেয়ার সময় এমপিরা রওশন এরশাদের টেবিলে দৃষ্টি দেন। সেখানে একটি বিদেশী পানির বোতল দেখা যায়। 
আজ দশম সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য রাখেন সংসদ নেতা ও বিরোধী নেতা। রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে খাদ্যে ভেজাল, ফরমালিন ও রাসায়নিক মেশানোর বিষয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন। তিনি এসব রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন। 
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ওপর সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এ থেকে যে আয় হবে তা শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয় করা যাবে।

শুক্রবার, জুন ২৭, ২০১৪

দ্বিতীয় রাউন্ডে আলজেরিয়া

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আনন্দে মেতেছেন আলজেরিয়ার ফুটবলাররা। ছবি: রয়টার্সদ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না রাশিয়ার। মাত্র ৬ মিনিটে আলেকজান্ডার কোকোরিনের গোলে সেই সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল ফ্যাবিও ক্যাপেলোর দল। কিন্তু লিডটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি রাশিয়া। ৬০ মিনিটে গোল শোধ করে দেন আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ইসলাম স্লিমানি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে এবার দ্বিতীয় আফ্রিকান দল হিসেবে শেষ ষোেলাতে উঠে গেল আলজেরিয়া। চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আলজেরিয়া।
অন্য ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে উঠে গেছে বেলজিয়াম। প্রথমার্ধেই ১০ জনের দল হয়ে যাওয়া বেলজিয়ামের হয়ে ৭৭ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ইয়ান ভার্তোনে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বেলজিয়াম খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, আলজেরিয়ার প্রতিপক্ষ জার্মানি।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতির বক্তব্য জঘন্য ও অগ্রহণযোগ্য : ম্যারি হার্ফ

বাংলাদেশের বিজিএমইএ সভাপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে জঘন্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ। পোশাক শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি পাঠানোকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে অভিহিত করে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের দেয়া বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ এ প্রতিক্রিয়া জানান।  
ম্যারি হার্ফকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকদের সমিতি-বিজিএমইএ প্রধানের বক্তব্য কী আপনি দেখেছেন? তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি সরাসরি মার্কিন সরকার অথবা কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তবে রাষ্ট্রদ্রোহীতার দায়ে তার বিচার হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে আপনি কি কিছু বলবেন। জবাবে ম্যারি হার্ফ বলেন, এই ধরনের বিবৃতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি যদি সত্যি এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তাহলে তা খুবই জঘন্য এবং কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুনাম রয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠিত হবার সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় এমন হুমকি অথবা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সুশীল সমাজের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হলে তার দায় সব বাংলাদেশিকেই নিতে হবে। সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এদেশে আইন আছে, আদালত আছে। তারপরও কাউকে না জানিয়ে যারা বিদেশে এ ধরনের অভিযোগ করে তাদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার দায় নিতে হবে। সাম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

নারীজাতির প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি

মোহাম্মাদ রাসেল আহমেদ, প্রবাসী লেখক, ফ্রান্স: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এই মানুষই আবার গঠন, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের কারণে দু’টি প্রজাতিতে বিভক্ত-নর ও নারী। বিশ্বে মানুষের ভূমিকায় নারীর অবস্থান ও অবদান অপরিহার্য বিষয়। তাই নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বসহ মানব ইতিহাসে বহুলভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। তবে জ্ঞানী সুধিজন স্বীকৃত সত্য যে, নারী সম্বন্ধে ভুল ধারণা তথা স্বার্থন্বেষী মহলের প্রতারণার কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে নারী বিষয়টি বিভিন্ন মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচিত হলেও তুলনামূলক ধর্মদর্শনের আলোকে মূল্যায়ন হয়নি বললে অতুক্তি হবে না। কারন আমরা এমন একটি সমাজে বাস করছি, যে সমাজে নারীদের নিয়ে আলাদা করে লিখতে হয়। সেক্ষেত্রে কি বোঝা যায় না, কী ধরণের সমাজে আমাদের বসবাস! এ এক এমন সমাজ যেখানে সভ্য সমাজের নামে অসভ্য শ্রেণির মানুষের ভার দ্বিগুণ।
নারী মুক্তি, নারীর মর্যাদা, নারীর অধিকার, নারীশিক্ষার কথা বলেছে ইসলাম আজ থেকে ১৪৩২ বছর আগে। কিন্তু বিশ্ববাসী তা শুনতে পায়নি। শুনলেও কান দেয়ার সময় পায়নি। এমন কি মুসলমানরাও বিষয়টা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করেনি। ইসলামে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যে বিদ্যার্জন ফরজ করা হয়েছে। জ্ঞান অর্জনের প্রশ্নে ইসলামে নারী পুরুষে কোন ভেদাভেদ বা ফারাক নেই। কিন্তু ধর্মান্ধ সমাজপতিরা নারীদের বঞ্চিত করেছে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই এমনটি ঘটেছে। এখনও বহুদেশে নারীদের কেন্দ্র করে বহু ভুল ধারনা বিরাজ করে। ইসলাম একটি সর্বাধুনিক ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থা। তবুও দেশে দেশে নারীরা পুরুষদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর কারণ ধর্মান্ধ মৌলবাদী পরিচালকগন ইসলাম প্রদত্ত নারী অধিকার সম্পর্কে সজাগ নন। অথবা সজাগ থেকেও নারীদের সে অধিকার দিতে চাননি বা অধিকার প্রতিস্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করেছেন। মৌলবাদীদের ব্যর্থতার কারণে জনগণ মনে করেছে এটা ইসলামের ব্যর্থতা। আমাদের ধর্মগুরুরাও নারী অধিকার, নারীর মর্যাদা ও নারী শিক্ষার ব্যাপারে গণজাগরন সৃস্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখনও ধর্মগুরুরা নারী অধিকারের ব্যাপারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারছেন না।

দু:খ হলো আমাদের রাস্ট্রের কোন লক্ষ্য বা আদর্শ নেই। ফলে দেশের অর্ধেক মানুষকেই মানবেতর জীবন করতে হয়। নারী শোষণের আরেক বিরাট চারণভূমি হলো গ্রামবাংলা। গরীব নিরক্ষর নারীরা এখানে সবচেয়ে বেশী অবহেলিত ও নির্যাতিত। নারীর চরিত্রের অধঃপতন কিংবা নৈতিকতার অবক্ষয় যে পুরুষের কারণেই হচ্ছে, সে বিষয়ে কিন্তু কেউ প্রশ্ন তোলে না। এমনকি, পুরুষরাই যখন একজন অসহায় দরিদ্র নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জোরজবরদস্তি করে তাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করিয়ে নেয়, সে বিষয়েও পুরুষেরাই সবচেয়ে বেশি উদাসীন। পুরুষ যাই করবে সবই গুণ, নারীর বেলায় সবই দোষ। নারীর পোশাক নিয়ে পুরুষরা যে পরিমাণ চিন্তিত,সে পরিমাণ চিন্তা যদি নিজের ব্যক্তিত্ব গড়ার ক্ষেত্রে ব্যয় করতেন তবে তারা ব্যক্তিত্ববান মানুষই হতেন। ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তিরাই পোশাককে মুখ্য এবং যোগ্যতাকে গৌণ করে তোলে। যেভাবে নিবিষ্ট মনে নারীর শরীর প্রত্যক্ষন করেন, ঠিক সেভাবে যদি একনিষ্ঠভাবে নিজ জীবনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মনোযোগ দিতেন তবে সকলের কাছেই আদর্শবান মানুষ হতে পারতেন। এই দেশে সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে ধর্মের মুখোশ পড়ে অধর্মের কাজে লিপ্ত হয়ে বেড়ায়। আর সবচেয়ে অনিরাপদ হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে কখনো কাউকে হত্যার হুমকি না দিয়ে শুধু কলম আর কীবোর্ড দিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছে সমাজের সকল কুসংস্কার অন্ধত্ব আর প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে। হাজার প্রতিকূলতার সত্ত্বেও যখন কোনো নারী দেশের জন্য লড়ে যায় নিরন্তর, তখন পুরুষেরা সুযোগ খুঁজে তাকে দিয়ে নোংরা কোনো মনস্কামনা পূরণ করিয়ে নিতে। এমনকি, এই অপবাদও ছড়ায় "যে নারী ঘর পরিবার ছেড়ে মাঠে নামে সে অসতী" অথচ ঘর পরিবার যে দেশের প্রয়োজনেই ছাড়ে সেটার কোনো মূল্য নেই এই বীর পুরুষদের চোখে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কোন পুরুষের একজন লড়াকু রাজনৈতিক নারী কর্মীর প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়ার মত পুরুষত্ব নেই।