রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৪

সোনালী পর্দার আড়ালের অন্ধকার

যেপথ ধরে অন্ধকার জগতে বলিউড সুন্দরীরাএকদিন হয়ত নিজেদের মহিমা দেখিয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন শ্বেতারা। কিন্তু সেই আলো বেশি দিন আলোকিত করতে পারিনী তাদের ক্যারিয়ারকে। অচিরে হারিয়ে গিয়েছে অন্ধোকার জগতে।
সম্প্রতি হাইপ্রোফাইল সেক্স র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রী শ্বেতা বসু প্রসাদকে পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করে৷ এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোনালী পর্দার আড়ালের অন্ধকার জনসমক্ষে বেরিয়ে এসেছে৷ এই প্রথম যে কোন বিখ্যাত অভিনেত্রী সেক্স র‍্যাকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন তা একেবারেই নয়৷
এর আগেও অনেক অভিনেত্রী দেহব্যবসায় জড়িত ছিলেন যাদের পুলিশ গ্রেফতার করেছিল৷ যদিও শ্বেতার মত রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন অভিনেত্রীর এই ধরণের কাজে লিপ্ত থাকাটা স্বভাবতই অবাক করা৷ কিন্তু এটাই বোধহয় এই জাঁকজমকের দুনিয়ার বাস্তব সত্য৷
বিখ্যাত তামিল অভিনেত্রী ভুবনেশ্বরীও দেহব্যবসার জড়িত ছিলেন৷ এই অভিযোগে দুই মডেলের সঙ্গে চেন্নাই পুলিশ গ্রেফতার করেছিল এই অভিনেত্রীকে৷ ২০০৯ সালের অক্টোবরে ভুবনেশ্বরীর প্রতিবেশীরাই পুলিশকে জানিয়েছিল, তার বাড়িতে অনের রাত পর্যন্ত বিভিন্ন লোকের আসা যাওয়া লেগে থাকে৷ এরপরেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে৷ তদন্তে জানা যায় ভুবনেশ্বরীর এই সেক্স র‍্যাকেটের সঙ্গে তামিল ও তেলেগু ছবির অভিনেত্রীরাও রয়েছেন৷
তামিল ছবির অপর অভেনত্রী এষা আনসারিকেও যোধপুর পুলিশ সেক্স র‍্যাকেট চালানোর অপরাধে গ্রেফতার করে৷ ২০১৩ সালে এশাকে তার তিন পুরুষ সঙ্গীসহ গ্রেফতার করা হয়৷ পুলিশি তদন্তে জানা যায়, এশা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের সেক্স পরিষেবা দিতেন৷ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এশার এই সেক্স ব্যবসা চলত৷ এই অভিনেত্রী বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘ওম শান্তি ওম’ ও ‘চলতে চলতে’ ছবিতে কাজ করেছেন৷
‘লাইফ কি তো নিকল পরি’ ছবি দিয়েই বলিউডে এন্ট্রি নিয়েছিলেন অভিনেত্রী মিষ্টি মুখার্জি৷ মিষ্টিকেও দেহব্যবসার অভিযোগে মুম্বাই পুলিশ গ্রেফতার করেছিল৷ ফ্যাশন ডিজাইনার রাকেশ কটোরিয়ার সঙ্গে আপত্তিজনক অবস্থায় ধরা পড়েন মিষ্টি৷ ১৫ তলার এই ফ্ল্যাটবাড়ি উদ্ধার হয় প্রায় একলক্ষ নীল ছবির সিডি ও ডিভিডি৷ পুলিশ মিষ্টির সঙ্গে তার বাবা ও ভাইকেও গ্রেফতার করে৷ কারণ দেহব্যবসার সঙ্গে মিষ্টির গোটা পরিবারই জড়িত ছিল৷
এই লিস্টে রয়েছে বিখ্যাত অভিনেত্রী যমুনার নামও৷ ২০১১ সালে দেহব্যবসার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে৷ ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ আট যুবতী ও একগ্রাহকের সঙ্গে অভিনেত্রী যমুনাকে গ্রেফতার করে৷
তেলেগু ধারাবাহিকের বিখ্যাত অভিনেত্রী শ্রাবণীকে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে গ্রেফতার করা হয়৷ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি একটি হাই প্রোফাইল সেক্স র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ পুলিশের তদন্তকারী দল তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে৷
এছাড়াও অপর এক তেলেগু অভিনেত্রী সায়রা বানো ও জ্যোতিও সেক্স র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ ২০১০ সালে হায়দরাবাদ পুলিশ স্প্রিং স্বর্গ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এই র‍্যাকেটের পর্দাফাঁস করে৷